দুই রাজাকারের ফাঁসির রায়ে কিশোরগঞ্জে আনন্দ মিছিল


প্রকাশিত: ০৮:২৩ এএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৭

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে কিশোরগঞ্জের দুই রাজাকারের ফাঁসির রায় দেয়ায় আনন্দ মিছিল করেছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষণার পর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সামনে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

এ সময় পথচারীসহ একে-অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। পরে মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সামনে তাৎক্ষণিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার মো. আব্দুল মান্নান ও ডেপুটি কমান্ডার বাসির উদ্দিন ফারুকী।

kishorgonj

এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধী রাজাকার মোহাম্মদ মোসলেম প্রধান ও রাজাকার সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেনের ফাঁসির রায় দেয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান মুক্তিযোদ্ধারা। একই সঙ্গে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেনকে গ্রেফতারসহ অবিলম্বে রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়।

১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ হুসাইন ওরফে হোসেন ও তার সহযোগী নিকলী সদর ইউনিয়নের রাজাকার কমান্ডার মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী গুরুই গ্রামে আক্রমণ করে পাক বাহিনীর সহায়তায় ২৬ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে।

১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে রাজাকাররা শহরের প্যারাভাঙ্গা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল জাহান বীর প্রতীককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে। খায়রুল জাহানকে হত্যার পর তার মরদেহ রিকশায় করে কিশোরগঞ্জ শহরে ঘুরানো হয়। এরপর রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন শহীদ খায়রুল জাহানের শোলাকিয়ার বাসায় গিয়ে তার মা শামসুন্নাহারের কাছে খায়রুলকে হত্যা করেছে বলে দম্ভোক্তি করে।

নূর মোহাম্মদ/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।