গাড়ির চাকায় পিষ্ট সৈকতের জীববৈচিত্র


প্রকাশিত: ০৫:০৯ এএম, ২১ এপ্রিল ২০১৭

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে মোটরসাইকেলসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচলে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত সাইনবোর্ড শোভা পাচ্ছে একাধিক স্থানে। এরপরও সৈকতে চলছে সকল প্রকার যানবাহন। ফলে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হচ্ছে সৈকতের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র।

স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব দেখভালের দায়িত্ব ট্যুরিস্ট পুলিশের কিন্তু তাদের উদাসীনতায় বন্ধ হচ্ছে না সৈকতে যান চলাচল।

কুয়াকাটা সৈকতের ট্যুরিস্ট গাইড ইমরান বলেন, বুধবার শেষ বিকেলে তিনটি মাইক্রোবাসের একটি বহর সৈকতের লেম্বুরচর থেকে গঙ্গামতির লেক পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা দাপিয়ে বেড়িয়েছে। এসময় সৈকতের নানা প্রজাতির প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্রসহ পর্যটকদের আকর্ষণ লাল কাকড়াও গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়েছে। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে পর্যটকদের দিকবিদিক ছুটতে দেখা গেছে।

এসময় তিনি ক্ষোভের সঙ্গে আরও বলেন, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে পর্যটক সৈকতে নামলে উভয়েরই শাস্তি হয়। কিন্তু ভিআইপিরা গাড়ির বহর নিয়ে নামলে তা যেন পুলিশের নজরেই আসে না।

সুর্যাস্তের পর সৈকতে জিরো পয়েন্টে রাত ৯টা পর্যন্ত নিজস্ব সশস্ত্র নিরপাত্তা বাহিনীসহ তিনটি গাড়ি নিয়ে শতাধিক লোক অবস্থান নেয়। এসময় সৈকতে বেঞ্চে বসা অগণিত পর্যটকরা ভয়-ভীতির মধ্যে সৈকত থেকে চলে যায় হোটেলে। এসব তথ্য সৈকতের ক্যামেরা ম্যান, ট্যুরিস্ট গাইড ও একাধিক ট্যুরিজম ব্যবসায়ীর।

ঢাকা থেকে আসা ২০ সদস্যের পর্যটক বহরে থাকা পর্যটক সাদিয়া ইসলাম তামান্না বলেন, সমুদ্র এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করতে কুয়াকাটায় এসেছি। এখানেও ভীতির কারণ! তাই বাধ্য হয়ে হোটেলে ফিরে যাচ্ছি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের এএসপি আব্দুল করিম বলেন, কুয়াকাটা সৈকতে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সৈকতে এসময় কেউ গাড়ি নামিয়ে থাকলে সেটি দেখা হচ্ছে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।