রাত হলেই রূপ বদলে যায় রূপসার


প্রকাশিত: ০৫:০০ এএম, ০৬ মে ২০১৭

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম শহর খুলনা। খুলনার উপর দিয়েই বয়ে গেছে খরস্রোতা নদী রূপসা। এই সেতুকে খুলনা শহরের প্রবেশদ্বার বলা হয়। কেননা এই সেতু দিয়েই খুলনার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলির সংযোগ ঘটেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মংলা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গেও সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করছে সেতুটি।

রূপসা নদীর উপর নির্মিত সেতুটির নাম খান জাহান আলী হলেও রূপসা সেতু নামেই সর্বাধিক পরিচিত। খুলনা শহরের রূপসা থেকে ব্রিজের দূরত্ব ৪.৮০ কি.মি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১.৬০ কি.মি।

rupsha

সন্ধ্যা হলেই চিরচেনা সেতুটির রূপ পাল্টে যায়। ব্রিজে থাকা শতাধিক ল্যামপোস্টের আলোয় এক নতুন রূপের আর্বিভাব ঘটে। যা খুলনাসহ আশপাশের জেলার মানুষের বিনোদনের স্পট হিসেবে কাজ করে। তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি পেশার মানুষ দিনের ব্যস্ততা শেষে ঘুরতে আসেন রূপসা সেতুর রাতের রূপ উপভোগ করতে।

দিন শেষে রূপসা সেতুতে ঘুরতে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, অনেক দিন আগে থেকেই রাতের বেলা রূপসা সেতুতে ঘুরতে আসবো ঠিক করে রেখেছিলাম। আমরা ৭-৮ জন বন্ধু মিলে এখানে এসেছি। একটু সময় কাটাব। ছবি তুলব। রাতের সেতুর রূপটা ভিন্ন। দিনে এক রাতে আরেক।

সেতুটিতে পথচারী ও অযান্ত্রিক যানবাহনের জন্য বিশেষ লেন রয়েছে। বর্তমানে সেতুটি পরিণত হয়েছে খুলনার একটি দর্শনীয় স্থানে। জাপানের সহায়তায় নির্মিত সেতুটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং উদ্বোধন করেন খালেদা জিয়া।

rupsha

উৎসবের দিনগুলোতে এই সেতুতে তরুণ-তরুণীদের ভিড় চোঁখে পড়ার মত জানিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এখানে আনন্দ ও রূপসার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। সেতুর উপর থেকে খুলনা শহরকে অপূর্ব সুন্দর মনে হচ্ছে।

এই সেতুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো দুই প্রান্তে দুটি করে মোট চারটি সিড়ি রয়েছে। যার সাহায্যে মূল সেতুতে উঠা যায়।

প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী সেতুটি পরিদর্শন করতে আসেন জানিয়ে সেতুর নিচে থাকা ছোট্ট চা-পানের দোকানদার সোবহান আলী জানান, সেতুটি হওয়ার ফলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে শুধু তা নয়। সেতুর আশেপাশে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।