টাঙ্গাইলে নির্যাতনকারী সেই শিক্ষক বহিষ্কার


প্রকাশিত: ০৩:২৪ এএম, ০৭ মে ২০১৭

টাঙ্গাইলের ১০ শিক্ষার্থীকে নির্যাতনকারী বিদ্যালয়টির আবাসিক ভবন পরিচালক সেই শিক্ষক বাবুল সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করেছেন শাহীন শিক্ষা পরিবার কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সন্ধ্যায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আসলাম হোসেন।

তবে লোহার রড আগুনে পুড়িয়ে ছ্যাকা দেয়ায় রিজভী আহমেদ টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলাটি করতে দেয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবম শ্রেণির কয়েকজন ছেলে শিক্ষার্থীর সঙ্গে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়টির আবাসিক ভবন পরিচালক বাবুল হোসেনের কাছে অভিযোগ করে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টির আবাসিক ভবন পরিচালক দশম শ্রেণির ১০/১২ জন শিক্ষার্থীকে ভবনের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়।

ডেকে নিয়ে কক্ষ বন্ধ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠি দিয়ে মারধর করে। এ মারধরের প্রতিবাদ করায় বগুড়া জেলার তালোরা এলাকার আলহাজ্ব সামাদ মিয়ার ছেলে ও প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র রিজভীর ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পৈশাচিক কায়দায় লোহার রড আগুনে পুড়িয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাকা দেয়।

এ সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা রিজভীসহ আহত ৫ শিক্ষার্থীকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ নির্যাতনে আহত বাকি ৫/৬ জন শিক্ষার্থী আবাসিক ভবন থেকে পালিয়ে গেছে বলেও জানায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, প্রতিনিয়তই এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন অভিযুক্ত এই শিক্ষক। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী রিজভী আহমেদ, জনি আহমেদ, ইরান হোসেন ও নাফি শেখকে শাহীন শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিদ্যালয় ভবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।