এক জমির দখলে দুইজন, পুলিশের তুঘলকি কাণ্ড!


প্রকাশিত: ১০:৪৩ এএম, ০৯ মে ২০১৭

একই জমির দখল প্রতিবেদন দুইজনকে দিয়ে তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়েছে তালা থানা পুলিশ। আর এ ঘটনায় একের পর এক নাটকীয় অবস্থান নিয়ে চলেছে তালা থানা পুলিশ।

ঘটনার নায়ক তালা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মঞ্জুরুল মাসুদ। কখনো তিনি সরকার প্রধানের আত্মীয় আবার কখনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক শেখ সেলিমের ঘনিষ্ঠবন্ধু পরিচয়ে সর্বসাধারণকে হয়রানি করে চলেছেন। যা তালার সর্বসাধারণ মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে সর্বজন স্বীকৃত।

এসব কথা জানিয়ে সাতক্ষীরার তালার শাহপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য বুধো খাঁ জাগো নিউজকে জানান, শাহপুর গ্রামের এনায়েত আলী গাজী ৩৫ বছর ধরে শাহপুর বাজারের পাশে ১৯ শতক জমি ভোগ দখল করছেন।

এর মধ্যে একই গ্রামের আনোয়ারা বেগম ৫/৬ বছর আগে থেকে জমি ক্রয় করেছেন জানিয়ে বিভিন্ন সময় জমিটি দখল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

এ ঘটনায় এনায়েত গাজী সাতক্ষীরা আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করলে আদালতের নির্দেশে তালা থানা পুলিশের এসআই মদন মোহন এসব ঘটনা উল্লেখ করে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তিনি আরও জানান, এরপর আনোয়ারা বেগম আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা করলে তালা থানা পুলিশের ওসি-তদন্ত মঞ্জুরুল মাসুদ জমিটি আনোয়ারা বেগমের দখলে রয়েছে উল্লেখ করে ১৪ মার্চ ভুয়া প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

এরপর ৩ মে সকাল ১০টার দিকে তালা থানা পুলিশের ওসি মঞ্জুরুল মাসুদ ও এসআই মদন মোহনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স শাহপুর এলাকায় আনোয়ারা বেগমের পক্ষ নিয়ে জমি দখলে লিপ্ত হয়।

মোবাইলে জমি দখল কার্যক্রমের ছবি তোলায় চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি করা হয় তালা প্রেসক্লাব সভাপতি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে।

ঘটনা থেমে নেই এখানে। একের পর এক ভয়ভীতিসহ হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ওসি তদন্ত। আমার ছেলেকে ডেকে থানায় নিয়ে হুমকি দিয়েছেন। উভয় প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন তালা থানা পুলিশের ওসি হাসান হাফিজুর রহমান।

একই জমি দুইজনকে দখল দেখিয়ে প্রতিবেদন দেয়া ও পরবর্তীতে সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজি মামলা বিষয়ে তালা থানা পুলিশের ওসি হাসান হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, আপনি একটু থানাতে আসেন। এক জায়গায় বসে কথা বলি। বিস্তারিত ঘটনা মোবাইলে জানানো সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, পুলিশ সদস্য কর্তৃক জমি দখল চেষ্টার ছবি মোবাইলে ধারণ করায় তালা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে চাঁদাবাজি মামলা হওয়ার ঘটনাটি খুলনার পূর্বাঞ্চলের সাংবাদিক কামরুল আলমের নেতৃত্বে সাংবাদিকরা খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি দিদার আহম্মেদের কাছে অভিযোগ করেন।

এ সময় ডিআইজি দিদার আহম্মেদ ওসি তালাকে কল করলে ওসি তালা জানান, চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে মামলা হলো কেন? এমন প্রশ্নে ওসি তালা সদুত্তর দিতে না পারেননি। ডিআইজি খুলনা চাঁদাবাজি মামলায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দেন।

আকরামুল ইসলাম/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।