আবারো ভাঙছে যমুনার পশ্চিম তীর
নদীতে আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের বালিঘুঘুড়ি ও পাঁচঠাকুরী এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে গত কয়েকদিন যাবৎ ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনের তীব্রতায় ইতোমধ্যে এই এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিকল্প বাধের প্রায় দেড়শ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
গত মাসেও এই একই এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছিল। ভাঙন রোধে এখনও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, পাঁচঠাকুরী এলাকা থেকে বালিঘুরঘুরি হয়ে বাহুকা পর্যন্ত নদীর গতিপথ বেঁকে ভেতরে ঢুকে পশ্চিম পাড়ে আঘাত হানায় এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। গত মাসে পাঁচঠাকুরী গ্রামের শহীদ আহসান উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু এলাকা নদীগর্ভে চলে যায়। থেমে থেমে এক মাস ধরে ভাঙন দেখা দিলেও পাউবো থেকে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আগে ভাঙন শুরু হলেই পাউবো জিওব্যাগ বালির বস্তা নিক্ষেপ শুরু করতো। কিন্তু বর্তমানে সে রকম কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
বেঁকে যাওয়া গতিপথটি বন্ধ করার জন্য পাউবো দুটি ড্রেজার এনে রাখলেও এখন পর্যন্ত কোন ধরনের কাজ শুরু করা হয়নি। আকস্মিক এই ভাঙনের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন জানান, স্থানীয়দের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় চ্যানেলটি বন্ধ করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুরোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দু`টি ড্রেজার পাঠানো হয়েছে। কাজ শুরুর জন্য পাউবো কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক জাগো নিউজকে বলেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে জিওবাগ বালির বস্তা ফেলার জন্য ডিপিপি এখনও অনুমোদন হয়নি। তাই কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইমাম জাগো নিউজকে বলেন, দুটি নতুন অত্যাধুনিক ড্রেজার মেশিন বিদেশ থেকে পাউবো ক্রয় করেছে, যা এখানে আনা হয়েছে। মেশিনটি একেবারেই নতুন। তাই একটু সমস্যা হচ্ছে। খনন কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। খনন কাজের বালি দিয়ে চ্যানলটি ভরাট করতে পারলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।
বাদল ভৌমিক/এমজেড/আরআইপি