সেতুর মুখে ভবন নির্মাণ


প্রকাশিত: ১০:৩০ এএম, ০৭ জুলাই ২০১৭

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সেতুর মুখে পানি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে করে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকার ২০০ বিঘা জমি চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার বাড়ি-ঘর পানিতে ডুবে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট শহরের পশ্চিম দিকের প্রবেশ পথে ছোট আকারের একটি সেতু ছিল। সেই সেতুর নিচ দিয়ে পৌর এলাকার পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামের বৃষ্টির পানি গড়িয়ে ইছামতি নদীতে পড়েছে। কিন্তু সেতুর উত্তর পাশের মুখে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জন্য পাঁচতলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ইতোমধ্যেই তিনতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। অপরিকল্পিত এই ভবন নির্মাণের সময় বর্ষার সময় পানি নিষ্কাসনের বিষয়টি চিন্তা করা হয়নি।

স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদও কোো কাজে আসেনি। এ কারণ এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই ওই সেতুর নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ধীরে ধীরে ভরে উঠছে পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামের নিচু এলাকা।

বর্তমানে আবাদি জমির ভেতর পানি থৈ থৈ করছে। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ভারি বর্ষণে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

পৌর এলাকার পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয়ে ইছামতি নদীতে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে কোনো প্রকার দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। কিন্তু প্রায় ছয় মাস আগে থেকে সেতুর মুখে অপরিকল্পিতভাবে নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নির্মাণাধীন ভবনের পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের জন্য জায়গা রাখা হয়েছে। পৌরসভার অর্থায়নে এই ড্রেন নির্মাণ করে দেয়ার বিষয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলে সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

ধুনট পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ বলেন, সরেজমিন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য ড্রেন নির্মাণের প্রাক্কলন তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে ড্রেন নির্মাণ করে পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামের নিচু এলাকার বৃষ্টির পানি পার্শ্ববর্তী ইছামতি নদীতে গড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।

লিমন বাসার/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।