টাঙ্গাইলে দুই বাঁধ ভেঙে ৩০ গ্রাম প্লাবিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১২:৪৯ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭

টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে যমুনা নদীর নলীন পয়েন্টে বিপদসীমার ১২৬ ও কালিহাতীর যোগারচর পয়েন্টে ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সেই সঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের নওগাঁ-জসিহাটি ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম নতুন করে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

নতুন করে বন্যাকবলিত গ্রামগুলোর জন্য ১ লাখ টাকাসহ ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামীকাল প্লাবিত গ্রামগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনে বরাদ্দ বৃদ্ধি করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন।

Tangail-Flood

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের নওগাঁ-জসিহাটি বেড়িবাঁধ ভেঙে নওগাঁ, জসিহাটি, তারটিয়া, তীরঞ্জ, ফুলকী ও ময়থা গ্রামসহ অন্তত তিনটি উপজেলার ২০টি গ্রাম নতুন করে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের আমন বোরো ধানের চারা বিনষ্টসহ উঠতি সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

এদিকে, কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া লৌহজং নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭/৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শতাধিক বসতবাড়ি।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানে নির্মিত হওয়ায় বাঁধটি বুধবার সকালে আকস্মিক ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের ফলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ২০টি গ্রাম। গ্রামগুলোর ফসলি জমি নষ্ট হওয়াসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। বসবাসের ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সড়কসহ বিভিন্ন প্রতিবেশীর উঁচু বাসা বাড়িতে।

Tangail-Flood

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ছানোয়ার হোসেন জানান, নওগাঁ-জসিহাটি ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ রক্ষায় রাতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু পানির প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে বাঁধটি রক্ষা করা যায়নি। ভাঙনের ফলে এলাকার কত মানুষ এখন পানিবন্দি তা নির্ধারণ করা না গেলেও ইতোমধ্যে ৮/১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ১০/১২টি গ্রাম।

একইভাবে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধটি রয়েছে হুমকির মুখে। চরম সঙ্কটে রয়েছে টাঙ্গাইলের বন্যাকবলিত সাধারণ মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডে লোকবল কম থাকলেও ভাঙন ঠেকাতে যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বাঁধ রক্ষার জন্য বালুর বস্তা পেলেও বালু নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম সঙ্কট। ফলে কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।