৭ খুন মামলায় নারাজী আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত


প্রকাশিত: ০৫:৩৭ এএম, ০৮ জুন ২০১৫

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের ঘটনায় একটি মামলার চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজী আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম শফিকুল ইসলামের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযুক্ত সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানাসহ ৩৫ আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আদালত আগামী ৮ জুলাই আদেশ প্রদানের দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৫জনকে অপহরণ শেষে হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও গাড়ি চালক ইব্রাহিমকে অপহরণ ও হত্যা মামলার বাদী ছিলেন চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল।

গত ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দুটি মামলার অভিন্ন চার্জশিটে ভারতের কলকাতায় গ্রেফতারকৃত সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ র্যাবের চাকুরিচ্যুত তিনজন আলোচিত কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে বিউটির মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে। যাদের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারি হাজী ইয়াছিন মিয়াও রয়েছেন।

এ ঘটনায় গত ১১ মে আদালতে সেলিনা ইসলাম বিউটি চার্জশিটের বিরুদ্ধে না রাজী প্রদান করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিউটির মামলার আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিট ও এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ায় না রাজী দেওয়া হয়েছে। সোমবার শুনানিতে আমরা না রাজীর পক্ষে যুক্তি তর্ক তুলে ধরেছি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্তি পিপি ফজলুর রহমান জানান, সাত খুনের ঘটনায় নিহত চন্দন সরকারের পরিবার চার্জশিটে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেলিনা ইসলাম বিউটির না রাজী আবেদন হয়ে থাকলে সেটা বাতিলের আবেদন করেছি। আগামী ৮ জুলাই আদালত পরবর্তী শুনানি ও আদেশ প্রদানের দিন ধার্য করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মো.শাহাদাৎ হোসেন/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।