চোরকে চিনে ফেলায় বগুড়ায় মা-মেয়েকে হত্যা
বগুড়ায় গৃহবধূ কাপিয়া আকতার (৩৩) ও শিশুকন্যা আয়েশা খাতুন (৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ঘরে ঢুকে চুরি করে নিয়ে যাবার সময় চিনে ফেলায় তাদেরকে হত্যা করা হয় বলে এ ঘটনার মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
সোমবার বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এ ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান আসামি রেজাউল করিম (৪০) । তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অন্য ঘাতকদের নাম, পরিচয় ও সংখ্যা প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
সোমবার রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আসলাম আলী জানান, গত ২৮ আগস্ট রাতে শহরতলির নামুজা ভান্ডারিপাড়ার ভাড়া বাসায় গৃহবধূ কাপিয়া আকতার ও তার শিশুকন্যা আয়েশা খাতুন খুন হন। পরদিন রাতে ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে কাপিয়ার ভাই আবদুল মোমিন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তে নামুজা ভান্ডারিপাড়ার মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মাদকসেবী রিকশাচালক রেজাউল করিমের নাম আসে।
৩ সেপ্টেম্বর রোববার গোপনে খবর পেয়ে কাহালু উপজেলার বনবোনাই গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে রেজাউলকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার ও অন্যদের নাম প্রকাশ করে। সোমবার বিকেলে তাকে বগুড়া অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম সুন্দর রায়ের আদালতে হাজির করলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়।
রেজাউল স্বীকারোক্তিতে বলেছে, গত ২৮ আগস্ট রাতে কয়েকজন সঙ্গীসহ কাপিয়া আকতারের বাড়িতে চুরি করতে যায়। জানালার রড ভাজ করে ঘরে ঢোকে। এ সময় কাপিয়া ও তার মেয়ে আয়েশা ঘুমে ছিলেন। আসামিরা ঘরে থাকা ৭৭০ টাকা, কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন চুরি করে যাবার সময় গৃহবধূ কাপিয়া টের পেয়ে যান। এ সময় তিনি এগিয়ে এলে তাকে আসামিরা ধাক্কা দিলে তিনি খাটের উপর পড়ে মাথায় আঘাত পান। চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামিরা গলায় ওড়নার ফাঁস ও মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে। এ সময় মেয়ে আয়েশা জেগে চিৎকার দিলে তাকেও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ও মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় আসামিরা।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আসলাম আলী বলেন, অন্য খুনিদের নাম, পরিচয় পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। স্বীকারোক্তি দেয়ার পর রেজাউল করিমকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
আরএআর/জেআইএম