সাতক্ষীরায় রহস্যে ঘেরা নজরুল হত্যাকাণ্ড
ভারত থেকে পাচার করা চোরাচালানের মালামাল ধরিয়ে দেয়াই কি কাল হলো সাতক্ষীরার দেবহাটার নজরুল ইসলামের (৪৮)? নাকি ভিন্ন কোনো কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নজরুল হত্যার ছয় দিনেই সেই রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ কুলিয়ার মোক্তার মোড়লের ছেলে। তিনি নিজেকে কখনও বিজিবি আবার কখনও পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিতেন।
দেবহাটা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও ছুটিতে। প্রকৃতপক্ষে তদন্ত এখনও সেভাবে এগোয়নি। তবে হত্যার পেছনে চোরাচালান সিন্ডিকেট জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। থানায় তার বিরুদ্ধে চারটি চোরাচালান মামলা রয়েছে। এছাড়াও তিনি সাতক্ষীরার বিজিবি সদস্য আবদুল জব্বার হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
নিহত নজরুলের ছেলে নাজমুল হোসেন জানান, তার বাবা ৩০ আগস্ট রাত ৮টার দিকে চাচা রবিউল ইসলামের কাছে ফোন করে জানায়, তিনি দেবহাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম খোকনের বাসায় আছেন। এরপর রাত ৯টার দিকে খবর পাওয়া যায় যে তার মরদেহ কে বা কারা দেবহাটার সখিপুর হাসপাতালে রেখে গেছে।
দেবহাটা থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার তাকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে শহরের রসুলপুর সরকারি গোরস্থানে দাফন করা হয়। পরে মরদেহের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় নিহতের স্বজনরা তাকে শনাক্ত করে।
গতকাল সোমবার নিহত নজরুলের বাবা মোক্তার মোড়ল বাদী হয়ে সাতক্ষীরার আমলি আদালত-২ এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় দেবহাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম খোকন, তার দেহরক্ষী পারুলিয়ার হাফিজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মুন্না ও পারুলিয়ার ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
আদালতের বিচারক রাজীব রায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দেবহাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়াও নজরুলের লাশ মরদেহ থেকে তুলে ফের ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেছেন মামলার বাদী।
তবে দেবহাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম খোকন বলেন, নজরুল আমার বাসায় ছিলেন না। নজরুলের মরদেহ যখন সখিপুর হাসপাতালে তখন আমাকে ফোন করেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুস সবুর। ততক্ষণে সেখানে পুলিশও পৌঁছে যায়। খবর পেয়ে আমিও ঘটনাস্থলে যাই। তবে মরদেহটি যে নজরুলের তা প্রথমে বোঝা যায়নি। কারণ তখন বিদ্যুৎ ছিল না। আমি ফেসবুকে অজ্ঞাত মরদেহের কথা বলে একটি স্ট্যাটাস দেই। পরে জানা যায় মরদেহটি নজরুল ইসলামের।
স্থানীয়রা বলছেন, নজরুল ইসলাম একজন চোরাকারবারী। দেবহাটায় ‘মনিরুল, রবিউল, নজরুল’ নামের একটি চোরাচালানী সিন্ডিকেট রয়েছে তাদের। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম চোরাচালান ছাড়াও অন্যদের চোরাচালান পণ্য ধরিয়ে দিয়ে বিজিবি ও পুলিশের কাছ থেকে সোর্স সুবিধা আদায় করতেন। আভ্যন্তরীন বিরোধকে কেন্দ্র করে নজরুল তার সহযোগীদের হাতে খুন হয়েছেন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
আকরামুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম