ওএমএসের চালে আগ্রহ নেই ক্রেতাদের
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার আওতায় ১৫ জন ডিলারের মাধ্যমে খোলাবাজারে (ওএমএস) ৩০ টাকা দরের চাল বিক্রি কার্যক্রমে সঠিক তদারকি হচ্ছে না এবং এ চাল বিক্রিত স্থানের পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না গ্রাহকের মাঝে। অনেক ডিলার আবার চালের স্থলে আটা বিক্রির ব্যানার লাগিয়ে রেখেছেন।
চলতি সপ্তাহের প্রথম থেকে সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলা ও ৬টি পৌরসভায় ৩৩ জন ডিলার ৩০ টাকা কেজিতে এই চাল বিক্রি করছেন। প্রতিজন ডিলার ১ মেট্রিক টন করে চাল সংশ্লিষ্ট গোডাউন থেকে কেজি প্রতি ২৮ টাকা ৫০ পয়সা দরে উত্তোলন করেন। পরে উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করবেন প্রতিদিন।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অথবা চাল মজুদ থাকা পর্যন্ত ডিলার পয়েন্টে চাল বিক্রির কথা থাকলেও রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত একজন ডিলারও ৩০ কেজি ওজনের ৩ বস্তা চালও বিক্রি করতে পারেননি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার জানিয়েছেন।
এদিকে খোলা বাজারে চালের মান নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠেছে। তবে খাদ্য কর্মকর্তাদের দাবি ওএমএসের চাল মোটামুটি ভালো।
অভিযোগ রয়েছে, সপ্তাহের প্রতিদিন ৬ জন করে ডিলারের মাধ্যমে ডিলার প্রতি ১ টন করে চাল বিক্রির কথা থাকলেও নির্দিষ্ট ডিলার সঠিকভাবে খোলাবাজারে চাল বিক্রি করছেন না। তদারকি কর্মকর্তারা শুধু কাগজে কলমে স্বাক্ষর করেই দায়িত্ব শেষ করছেন।
শহরের নিউ ঢাকা রোডের চামড়াপট্টি সিরাজগঞ্জের ঠিকানায় মো. রবিন আহমেদ নামের একজন ডিলার চাল উত্তোলন করে নির্দিষ্ট স্থানে চাল বিক্রি না করে জেলা জজকোর্টের সামনে ঘুপছির ভেতর ওয়ার্কসপের দোকানে চালের পরিবর্তে ১৭ টাকা কেজি দরের আটা বিক্রির লাল ব্যানার লাগিয়েছেন।
এ বিষয়টি ডিলার পয়েন্টে চাল বিক্রির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তা উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো. ফেরদৌস আলমীগরের নজরেও আসেনি। রোববার কোনো ডিলার পয়েন্টে চাল বিক্রির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তাদেরও দেখা যায়নি।
নিয়ম অনুযায়ী অবিক্রিত চাল পরের তারিখের চাহিদার সঙ্গে অবশিষ্ট চাল মজুদ রাখার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো ডিলার অবিক্রিত চাল পরের তারিখের চাহিদার সাথে সমন্বয় করছেন না। যেহেতু ওএমএস ডিলাররা খোলা বাজারে চাল বিক্রি করতে পারছেন না তাহলে ডিলারের কাছে থাকা অবিক্রিত চাল যাচ্ছে কোথায় এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মনে।
সিরাজগঞ্জ শহরের খুচরা বাজারের চাল ব্যবসায়ী বাদশা আলম বলেন, দেশের বিভিন্ন চালের মিলে ও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় জেলা শহরে এ প্রভাব পড়েছে। এছাড়া চাহিদা মতো চাল দিতে পারছে না আড়ৎদাররা। যার ফলে পাইকাররা তাদের দেওয়া মূল্যে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে চাল ব্যবসায়ী পাভেল খান বলেন, আমরা যেভাবে ক্রয় করি সেভাবে বিক্রি করছি। এর চেয়ে বেশি তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার জহিরুল ইসলাম খান জানান, চাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির আশ্রয় নিলে ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খোলাবাজারে এ চাল বিক্রি অব্যাহত থাকায় কেজি প্রতি ২/৩ টাকা চালের দাম কমেছে।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/জেআইএম