কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১১:১৯ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৭

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জান্নাতুল ফেরদৌস (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ধারাল চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার মূলহোতা ইমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মোহনগঞ্জ রেল স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে আহত কলেজছাত্রীর বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে বখাটে ইমনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ মামলাটি আমলে নিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ইমনকে আদালতে পাঠিয়েছে।

এদিকে, ঘটনার হোতা বখাটে ইমনের ফাঁসির দাবিতে বুধবার দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পারভীন সিরাজ মহিলা কলেজ আয়োজিত এ মানববন্ধনে কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজ, সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, আলহাজ আতিকুর রহমান ভূইয়া একাডেমি, সায়মা শাহজাহান একাডেমিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের লোকজন অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বখাটে ইমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা রোজী, পৌর মেয়র আসাদুল হক ভূঞা, কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, পারভীন সিরাজ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম, সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমান বাঙালি, উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন ভূইয়া, পারভীন সিরাজ মহিলা কলেজের প্রভাষক লুৎফুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবীর আহম্মেদ খান রুজেল।

মানববন্ধন শেষে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিরিন সুলতানার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কলেজছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবারের লোকজন। মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারাল চাপাতির বেশ কয়েকটি কোপের ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় এখনও কলেজছাত্রী আশঙ্কামুক্ত নয় বলেও জানান তারা।

খবর পেয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি ও অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মো. আক্কাছ উদ্দিন ভূইয়া মঙ্গলবার রাতে কলেজছাত্রীকে দেখতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

কেন্দুয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক স্বপন চন্দ্র সরকার জাগো নিউজকে জানান, এ ঘটনায় নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহজাহান মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। থানায় মামলা হয়েছে এবং ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ইমনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার পাথাইরকান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের মেয়ে জান্নাতুল কেন্দুয়ার পারভীন সিরাজ মহিলা কলেজে পড়াশোনার সুবাদে উপজেলার পৌর এলাকায় শান্তিনগর মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় থেকে কলেজে পড়ালেখা করছেন।

একই এলাকার রাজমিস্ত্রি সোহাগের শ্যালক বখাটে ইমন (২২) তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ইমন কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর ইউনিয়নের ভুঁইয়া পাড়া গ্রামের মহর আলীর ছেলে।

গত দুইদিন ধরে বখাটে ইমন শান্তিনগর এলাকায় ভগ্নিপতি সোহাগের বাসায় অবস্থান করছিল। সেখানে থেকে ইমন মেয়েটিকে প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে কৌশলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বখাটে ইমন ওই ছাত্রীকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং মাথার চুল কেটে দিয়ে পালিয়ে যায়।

কামাল হোসাইন/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।