কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুট : গাড়ির জন্য ফেরির অপেক্ষা


প্রকাশিত: ০৪:১২ এএম, ৩০ জুন ২০১৫

ঘাটে নেই যানজট। নেই ফেরি কিংবা লঞ্চের সংকট। তবুও ঘাটে যাত্রী ও চালকদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। কমতি নেই যাত্রীদের ভোগান্তির। এ চিত্র কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌ-রুটের যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীদের রাজধানীতে প্রবেশের কড়িডোর বা প্রবেশদ্বার।

এদিকে, দীর্ঘ ১৬কিলোমিটার দীর্ঘ এ নৌ-রুটে চলাচলকারী বিশালাকৃতির ফেরিগুলো এখন গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। রমজান আর গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের প্রভাবে এ রুটে মাতারিক্ত যানবাহনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে দাবি বিআইডব্লিউটি এর। আর সে কারণেই পরিবহনের (গাড়ি) জন্য ফেরির অপেক্ষা বলে দাবি ফেরি কর্তৃপক্ষের।

 

যাত্রী শাকিল মিয়া জানান, সকালে খুলনা থেকে সুন্দরবন পরিবহনে উঠেছি। দুপুর ১টায় কাওড়াকান্দি ঘাটে গাড়ি এসে পৌঁছেছে। ৩নং ঘাটে তিনটি ফেরি নোঙ্গর করা কিন্ত ঘাটের ফেরিতে কোন পরিবহন নেই। তাই ২ ঘণ্টা ধরে এ ঘাটেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সময় অপচয় হচ্ছে। কিন্ত নদী পারাপারের কোন ব্যবস্থা নেই।

সরেজমিনে কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ৩নং ফেরিঘাটে ৩টি বড় ফেরি নোঙ্গর করে রাখা। পন্টুনের সঙ্গে একটি টানা ফেরিতে ৫টি পরিবহন উঠেছে। আরো ছোট-ছোট পরিবহন ফেরিতে উঠছে। কিন্ত ওই টানা ফেরিটি লোড করতে পরিবহনের প্রয়োজন প্রায় ১৬টি গাড়ির। কিন্ত যেভাবে গাড়ি ঘাটে আসছে তাতে মনে হয় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে ফেরিটি লোড হতে।

এছাড়া কাওড়াকান্দি ফেরি ঘাটের এক নম্বর ও দুই নম্বর ঘাটে আরো ৪টি ফেরি শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে ছাড়ার অপেক্ষায়। ওই দুটি ঘাটের ফেরিগুলো ও পরিবহন সংকটে ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে।



সুন্দরবন পরিবহনের চালক শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরিঘাট মানেইতো নানা ধরনের বিড়ম্বনা ! ফেরিঘাটে সাধারণত যাত্রী হয়রানি আর বিড়ম্বনা নিত্য ঘটনা । কিন্ত বেশ কয়েকটি ঘাটে বাধা থাকার পরও তো সময়মত পার হওয়া যাচ্ছে না।  এটাও এক ধরনের বিড়ম্বনাই।

অপরদিকে কাওড়াকান্দি ঘাট লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মো. আতাহার বেপারী জাগো নিউজকে জানান, রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কম। তাই বর্তমানে যাত্রী চলাচল করছে অনেক কম। এক কথায় কাওড়াকান্দি ঘাটে যাত্রী নেই বললেই চলে। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম যাত্রী নিয়ে বর্তমানে শিমুলিয়া ঘাটের  উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। এতে লঞ্চ ও স্পিড বোটের মালিকরা হতাশায় পড়েছে।



কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটের ইনচার্জ বিআইডব্লিউটি এর ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম মিয়া জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও রমজানের প্রভাবে মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরির গাড়ি পারাপার কমে গেছে। তবে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো ১৬টি ফেরি রাতদিন চলাচল করছে। তবে ঈদ উপলক্ষে যাত্রী পারাপার নির্বঘ্ন করতে আরো ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে অল্প সংখ্যক গাড়ির কারণে অনেক ফেরি সময়মত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না। বড় বড় ফেরি বোঝাই করতে (লোড করতে) বেশি সময় নিচ্ছে। তাই যাত্রীদের এখানে সময় বেশি লাগছে। গত কয়েক দিন ধরেই গাড়ির জন্য অপেক্ষা থাকতে হচ্ছে ফেরিগুলোকে।

একেএম নাসিরুল হক/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।