আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা ভরাটের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও তার ছোট ভাই আবু কাউছার পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের তিনটি সেতুর নিচের অংশ ভরাট করেছেন।

এর ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত সরকারি খাস খতিয়ান অন্তর্ভুক্ত ১৪২৩, ১৪২৭ ও ১৬৭৫ সরকারি খাস ভূমির মোট ৫১ শতাংশ বালি দিয়ে ভরাট করে কিছু অংশ বিক্রয় ও কিছু অংশ বসতবাড়ি, কিছু অংশ মাছ চাষ করে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন তার ভাই আবু কাউছার।

গত ১৯ নভেম্বর ওই ইউনিয়নের নবীপুর ও লাপাং গ্রামের ২৮৬ জন এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত দু’টি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. শরীফ ও দারু মিয়া জানান, ১৪২৩, ১৪২৭, ১৬৭৫ হাল দাগের সরকারি খাস ভূমি বালু দিয়ে ভরাট করে জনগণের চলাচলের জন্য নির্মিত তিনটি সেতু সম্পূর্ণ অকেজো করার পাশাপাশি সরকারি খাস ভূমির কিছু অংশ বিক্রয় ও অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর স্বার্থে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নবীপুর ও লাপাং গ্রামের ছোট ছোট চারটি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সেতুর নিচের অংশই বালু দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে। সেতু থাকলেও নেই কোনো সংযোগ সড়ক। সেতুর উপরে নির্মাণ সামগ্রী রাখা। একটি সেতুর উপর বেড়ে উঠেছে সবজি গাছ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন বলেন, সেতুর নিচের খাল ভরাট করার কারণে দুই গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বর্ষায় দুর্ভোগে পড়তে হয় এলাকার মানুষকে। একাধিকবার এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও, কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ছোট ভাই আবু কাউছার জানান, অনেক আগেই এসব জায়গা ভরাট করা। যাদের বাড়ির সামনে খাল তারাই সেটা ভরাট করেছে। তিনি এর সঙ্গে জড়িত নন। তবে একটি জায়গায় পাইপ বসানোর কাজ তিনি করেছেন এলাকার মানুষের চলাচলের স্বার্থে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহীন তানভীর গাজী বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছে। এখানে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ব্যাপার আছে। আমরা সরকারি জায়গা দখলে জড়িত কাউকেই ছাড় দেব না।

এ ব্যাপারে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আশফাকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা স্থানীয়দের করা অভিযোগ তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :