সেতুর কারণে ১২ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

রেলিং ভেঙে ও পিলার দেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুরের শিবপুর-খুকনী সংযোগ সেতুটি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও তাঁত শ্রমিকসহ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

প্রায় আড়াই যুগ আগে নির্মিত এ সেতুটি সংস্কার কিংবা অপসারণ করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২টি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করতোয়ার শাখা নদীর শিবপুর বটতলা খালের উপর ১৯৮৭ সালের দিকে প্রায় ৩৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করে এলজিইডি। এ সেতু দিয়ে খুকনী, জালালপুর ও স্থল ইউনিয়নের (আংশিক) এলাকার অন্তত ১২টি গ্রামের সাড়ে ৭ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে। প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে সেতুটির বিভিন্ন অংশের পলেস্তোরা খসে, রেলিং ভেঙে ও পিলার দেবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ভারি যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা রিকশা-ভ্যানই যাতায়াত করতে পারে না। তারপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্ভোগে পড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির উপর দিয়ে।

বিশেষ করে শাহজাদপুর উপজেলা সদর ও খুকনী ইউনিয়ন পরিষদ, শিবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থল পাকড়াশী ইন্সটিটিউশন অ্যান্ড কলেজ, খুকনী বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়, খুকনী দারুল উলুম কওমিয়া মাদরাসাসহ এলাকার অন্তত ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ২৬টি তাঁত কারখানার শত শত তাঁত শ্রমিককে ভোগান্তিতে পড়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় এই সেতু দিয়ে।

স্থল পাকড়াশী ইন্সটিটিউশন অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবু কাউসার, তানজিলা ও মর্জিনা খাতুন এবং তাঁত শ্রমিক জমির উদ্দিন, আবুল হোসেন ও জাকারিয়া হোসেন জানান, প্রায়ই সেতুর রেলিং ও পলেস্তোরা খসে খসে পড়ে যায়। সেতুটি শুধু ভাঙা নয়, সেতুর সংযোগ সড়কে বড় বড় গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। হেঁটে পারাপার হতেই ভয় লাগে, তারপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেতু পারাপার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়।

এ বিষয়ে খুকনী ইউপি চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষদের উপজেলা সদর ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম শিবপুর সেতু। অতি পুরাতন এ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেহেলী লায়লা জানান, এলজিইডির সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএএস/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।