চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্ন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের কর্মচারীরা
গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক প্রকল্পের মেয়াদ এবছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়েছে।
এ চিঠি পাওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক প্রকল্প পরিচালক মো. সামসুল আজমের (৩০ নভেম্বর) স্বাক্ষরিত এক চিঠি পেয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ সময়ে প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির অবসান ঘটবে।
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেউ এ প্রকল্পে নিয়োজিত থাকলে তবে তারা নিজ দায়িত্বে থাকবেন, এজন্য কোনো অবস্থাতেই কর্তৃপক্ষের কাছে বেতন-ভাতা দাবি করতে পারবেন না।
তবে এ প্রকল্প দ্বারা সৃষ্ট স্থাপনা বন্যপ্রাণির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল পোষণের নিমিত্ত রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বেতন না পেলে কীভাবে তাদের সংসার ও ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ, বাড়িভাড়া ইত্যাদি জোগাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনেকের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ যদি আর না বাড়ে কিংবা এটি যদি রাজস্ব খাতে না নেয়া হয় তাহলে তাদের পথে নামতে হবে।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রকল্প পরিচালক তপন কুমার সরকার জানান, ২০১৩ সালে প্রায় অর্ধশত জনবল নিয়ে এটি চালু হয়। তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। এত অল্প জনবল দিয়ে পার্কটি পরিচালনা কঠিন ব্যাপার। তারপরও এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে নিয়ে আরও দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সরকার লাভবান হবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র পেশ করা হয়েছে বলে জানান, পার্ক প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান।
তিনি বলেন, গত নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত সভা হয়েছে। পার্কে ৩৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আউটসোর্সিং কর্মীসহ প্রায় অর্ধশত জনবল রয়েছে। যা খুবই অপ্রতুল। পার্কটি সুষ্ঠুভাবে মেনটেন করতে প্রায় ৩০০ জন দক্ষ জনবল প্রয়োজন রয়েছে। তারপরও সবকিছু বিবেচনা করে মন্ত্রণালয়ে ২০০ জনবলের চাহিদা দিয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া পেলে এ প্রক্রিয়া শেষ হতে অন্তত ছয় মাস লাগবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
পার্ককে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের মতামত ও প্রতিবেদন নেয়ার পর তা বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদনের পর একনেকে যাবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে তা পাস হবে। এসব শেষ হতে কমপক্ষে ৬ মাস লাগবে। এর আগে বিভিন্ন দফতর থেকে কিংবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পার্কের কাজ চালানো হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে রাজস্ব খাতে ৫০ জনের পদ সৃষ্টি হয়েছে। পরে সেখানে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লোক নিয়োগ করা হবে। সেখানে আগের কিছু লোক আত্মীকরণ হতে পারে কিংবা নতুন লোকবল নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে জানা যায়।
মোঃ আমিনুল ইসলাম/এএম/এসএম