১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ : এবার অডিটর ও পিয়ন গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৭:৩৯ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ভূমি অধিগ্রহণ তহবিল থেকে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এবার জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর সাইদুজ্জামান ও পিয়ন দুলালকে গ্রেফতার করেছে দুদক।

মঙ্গলবার বিকেলে দুর্নীতি দমন কমিশিনের ঢাকা ও ময়মনসিংহের ৪ সদস্যের একটি দল ওই দুই সরকারি কর্মচারীকে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে সরকারি তহবিলের ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় কিশোরগঞ্জ জেলার সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মো. সেতাফুল ইসলাম গ্রেফতার করে দুদক।

গত ১৭ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের একটি দল সেতাফুলকে পিরোজপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করে।

ওদিনই দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল বাদী হয়ে সেতাফুলকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

মামলায় সেতাফুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। কিশোরগঞ্জ থেকে বদলির পর তিনি একই পদে পিরোজপুর জেলায় দায়িত্বরত ছিলেন।

২৯ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট আ. ছালাম খান সেতাফুল ইসলামকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মো. সেতাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওদিন বিকেলে আদালতের বিচারক তছলিমা আক্তারের খাস কামরায় সেতাফুলের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের নির্দেশে সেতাফুলকে আবারও কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের আদেশের পরই সেতাফুলকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজেদের হেফাজতে নেয়।

সূত্র মতে, সেতাফুলের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ (রাজস্ব) জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস ও ব্যাংকের কয়েকজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পরই গ্রেফতার হলো এ দু’জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ দু’জনকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা কেন্দ্রীয় অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুল বারী, সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব ও সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে দুদকের একটি উচ্চ পর্যায়ের দল জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অডিটর ও পিয়নকে গ্রেফতার করে।

প্রসঙ্গত, কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কয়েকশ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ করা তহবিল থেকে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলাম জাল আদেশ তৈরি ও প্রতারণা করে চেকের পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তার কাছ থেকে আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় থাকা আরও ৯ কোটি টাকার চেক জব্দ করা হয়।

চাঞ্চল্যকর অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়াও ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মির্জা তারিক হিকমতকে প্রধান করে আরেকটি এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সব কটি কমিটি এরই মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

জানা গেছে, ভূমি সচিবের কাছে দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সেতাফুল ছাড়াও কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশাসক, জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সুপার ও অডিটর এবং সোনালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ম্যানেজারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

নূর মোহাম্মদ/এএম/আইআই