ধুলার সড়ক, দুর্ভোগের সড়ক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১১:০৮ এএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কটির বেশির ভাগ অংশ দেখে চেনার উপায় নেই এটি মহাসড়ক নাকি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা। জেলার গোয়ালন্দ মোড় থেকে চন্দনী পর্যন্ত সড়টির বেশির ভাগ অংশ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। ফলে এ সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে।

এছাড়া প্রতিনিয়তই সড়কে যানবাহন বিকল হওয়াসহ ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কটির আশপাশের ঘর-বাড়ি, দোকান আর গাছপালাও এখন লাল ধুলায় ছেয়ে গেছে। সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় ধুলায় কিছুই দেখা যায় না এমনকি নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় চালক ও যাত্রীদের।

RAJBARI

সড়ক বিভাগ গর্তের স্থানে ইট-বালু দিয়ে কোনো রকমে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করলেও সেটা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। তবে সড়কটির উন্নয়নে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক বিভাগ। যার কারণে নতুন করে সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে না।

সড়কের পাশে বসবাসকারী ও ব্যাবসায়ীরা জানান, এ সমস্যা আজকের নয়। টানা দুই বছর ধরে চলছে। দীর্ঘ টালবাহানা শেষে সড়কের উন্নয়নের কাজ শুরু করা হলেও তা চলছে ধীর গতিতে। ফলে সড়কের পাশে থাকা দোকানি ও বাড়ির মানুষদের অবস্থা খুবই খারাপ। এছাড়া সড়কের পাশের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যরা শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সড়ক ভিজিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য ধুলা নিবারণ করলেও সেটা কোনো কাজে আসছে না।

RAJBARI

পথচারী ও যাত্রীরা জানান, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা চরম দুর্ভোগের ব্যাপার। অসুস্থ কোনো মানুষ এ সড়কে চলাচল করলে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে। সড়ক দিয়ে বড় ধরনের কোনো যানবাহন গেলে ধুলায় অন্ধাকার হয়ে যায় চারদিক। তাছাড়া যানবাহন চলার সময় ছোট-বড় গর্তের ঝাঁকুনিতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ অকবর নিবির জানান, ধুলাবালির কারণে সাধরণত ফুসফুসের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। এছাড়া এলার্জিজনিত ঠাণ্ডা, কাশি, চোখের সমস্যাও হতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে মাস্ক ও সানগ্লাস ব্যবহার করা জরুরি।

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, রাজবাড়ীর ৩টি সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার কাজ শুরু করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বর্ষা মৌসুমের আগেই সিংহভাগ কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওই কাজ সম্পূর্ণ হলে মানুষের এ দুর্ভোগ কমে যাবে।

রুবেলুর রহমান/এফএ/জেআইএম