টাঙ্গাইলের স্বাবলম্বী নারীদের দৃষ্টান্ত ঝর্ণা খানম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১০:১৫ পিএম, ০৭ মার্চ ২০১৮

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি-এ কথার তাৎপর্য আর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন টাঙ্গাইলের ঝর্ণা খানম। টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও চাঁদপুর জেলার আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী ঝর্ণা খানম (৪৫)। ২ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তানের জননীও তিনি। ৫ সদস্যের এ পরিবারের বসবাস ছিল থানাপাড়াস্থ ভাড়াকৃত এক বাসায়।

স্বামীর ছোট্ট চাকরির আয় দিয়ে ৩ সন্তানের লেখাপড়া, বাসা-ভাড়া আর পরিবারের ব্যয় সামলাতেই দিশেহারা ছিলেন ঝর্ণা খানম। তবে এ স্বত্তেও নিজস্ব বাড়ি আর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার প্রচেষ্টা কমও ছিল না তার।

এ প্রচেষ্টায় আর প্রতিবেশীদের পরামর্শে ২০০০ সালে জাতীয় মহিলা সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখায় ৪ মাস ব্যাপি সেলাই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এ প্রশিক্ষণ আর কঠোর পরিশ্রমে দিনদিনই সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেন ঝর্ণা। বসবাসরত বৃহত্তর থানাপাড়া এলাকায় নারীদের পোশাক তৈরির দক্ষ কারিগর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

women-day

এই পরিচিতিতেই ভাগ্য পরিবর্তন আর নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন পূরণের পথ খুঁজে পান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার থানাপাড়া শান্তিকুঞ্জ মোড় এলাকায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় সাড়ে ৪ শতাংশ জমি ক্রয় ও ২০০৫ সালে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। এর মধ্যে মাত্র ২০ লাখ টাকা ব্যাংক লোন নেন তিনি। এরপর ২০০৭ সালে চাকরিতে অবসর নেন তার স্বামী। তবে এরই মধ্যে তিনি বড় মেয়ে শশীকে টাঙ্গাইল সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এমএ পাস করিয়ে বিয়েও দেন এ পরিবার। ছেলে সেতুও সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস সম্পন্ন ও ছোট মেয়ে রাখি শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব কলেজে অধ্যায়নরত ছিল।

এরপরও থেমে যায়নি তার এ সেলাই কার্যক্রম। সেলাই কার্যক্রম বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিজ উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ আর সেলাই কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি এখন সমাজের একজন স্বাবলম্বী নারী। এরই সাফল্য স্বরূপ এখন তিনি সেলাই কাজের মাধ্যমে গড়ে মাসে প্রায় ৫০ হাজার ও সেলাই প্রশিক্ষণ থেকে ২০ হাজার টাকাসহ এ পরিশ্রমে গড়ে তোলা ৪ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবনের ৬ ইউনিট থেকে ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন বলেও জানান তিনি।

নারী দিবস উপলক্ষে অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন টাঙ্গাইল পৌর এলাকার থানাপাড়াস্থ জীবন সংগ্রামে জয়ী ও সাবলম্বী নারী ঝর্ণা খানম।

women-day

তিনি আরও বলেন, তার ৩ সন্তানের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে আর এই সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তার দুই মেয়ে, ভাতিজি, ভাগ্নিসহ দুই শতাধিক নারী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে স্ব স্ব জীবন পরিবর্তনে সচেষ্ট রয়েছে।

ঝর্ণা খানম প্রসঙ্গে জাতীয় মহিলা সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ২০০০ সালে এ সংস্থা থেকেই সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ঝর্ণা। সেলাই প্রশিক্ষণকালে ঝর্ণা ছিল খুবই মনযোগী আর কর্মঠ। এ কারণে তিনি এ প্রশিক্ষণে সফল ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। তার এই স্বাবলম্বীতা অর্জনে সংস্থার সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝর্ণার এই স্বার্থকতায় আমরাও অনুপ্রাণিত।

আরিফ উর রহমান টগর/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।