নরসিংদীতে যুবলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮
ছবি : নিহত যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান সৈকত

নরসিংদীতে যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান সৈকতকে হত্যার ঘটনায় শিবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহতের বড় ভাই মোরশেদ আলম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার রুবেল, একই এলাকার নুরু সরদারের ছেলে শাহেদ ও দত্তপাড়া এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে ইমরানকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

নিহত সৈকত নরসিংদী সদর উপজেলার দক্ষিণ শীলমান্দি এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে এবং শীলমান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাওনা টাকার জিম্মাকে কেন্দ্র করে সৈকতকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছিল আসামিরা। মারা যাওয়ার আগে সৈকত তার মা ও স্ত্রীর কাছে বিষয়টি বলে যান।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহত সৈকতের প্রতিবেশী সুজনের সঙ্গে রনি নামে এক ব্যক্তির টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ হয়। ওই সময় নিহত সৈকত সুজনের টাকার জিম্মাদার হন। কিন্তু সুজন সঠিক সময় টাকা দিতে না পাড়ায় গত শনিবার দুপুরে ইমরান, রুবেল ও শাহেদ সহ ৭/৮ জন লোক সুজনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। টাকার জিম্মাদার হওয়ায় তারা সৈকতকে টাকা দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সৈকতকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ওই সময় রুবেলের সঙ্গে নিহত সৈকতের মোবাইলে কথোপকথোনের রেকর্ডে মেরে ফেলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। রুবেলের সঙ্গে কথোপকথোনের রেকর্ডটি সৈকত তার স্ত্রীর কাছে সংরক্ষণ করে রাখে। সোমাবার দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে মামলার আসামি শাহেদের ফোন পেয়ে সৈকত নিজের গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে রেব হন। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পর দিন সকালে শিবপুর উপজেলার ঢাকা-মনোহরদী আঞ্চলিক সড়কের পাশে পুরানদিয়া জামতলা এলাকা থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় তার মরহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার নিশি বলেন, রনির সঙ্গে সুজনের লেনদেন ছিল। ওই ঘটনায় জিম্মাদার হয় সৈকত। সুজন টাকা না দেয়ায় রুবেল, ইমরান ও শাহেদ সৈকতকে অব্যাহতভাবে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন শাহেদের ফোন পেয়ে সৈকত দ্রুত বেরিয়ে যায়। এরপর বাড়ি ফেরে লাশ হয়ে। আমি খুনিদের বিচার চাই।

মামলার বাদী মোরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমার ভাই নিরপরাধ। একজনকে বাঁচাতে টাকার জিম্মাদার হয়েছে। তাই বলে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে আমার ভাইকে খুন করবে? টাকার প্রয়োজন হলে আমাদেরকে জানাতে পারতো। আমরা টাকা দিতাম। আমার ভাইটাতো বেঁচে থাকতো। আমার অনতিবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার সাইফুল্লা আল মামুন বলেন, বেশ কিছু বিষয়কে সামনে রেখে মামলার তদন্ত চলছে। শিগগিরই আসামি গ্রেফতারসহ মামলার অগ্রগতি জানানো সম্ভব হবে।

সঞ্জিত সাহা/আরএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :