ব্রিজের মুখ বন্ধ করে কারখানা নির্মাণ, বোরো আবাদ অনিশ্চিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৭:২৫ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৮

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের ওমরপুর এলাকায় একটি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে কারখানা নির্মাণে সহস্রাধিক একর জমির বোরো চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওমরপুর গ্রামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মিত একটি ব্রিজের মুখে স্থানীয় দেওয়ান বক্স ফ্যাক্টরি অবস্থিত। দেওয়ান বক্স ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ পূর্ব দিকে তিনটি বাংলা ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাট করায় ব্রিজের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। ওই ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে ব্রিজের পশ্চিমাংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সহস্রাধিক একর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেকেই ওই এলাকার জমিতে ধান রোপণ করেননি। যেসব কৃষকরা ওই জমিতে ধান রোপণ করেছেন তারা ফসল ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কা আর হতাশায় ভুগছেন।

Tangail-Land

স্থানীয় কৃষক মো. খসরু মিয়া, মো. বাবলু মিয়া, মো. বাকী মিয়া, আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন, মো. মতি মিয়া, আ. মান্নান, বাক্কার আলী, মো. আলআমিন সহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ওমরপুর গ্রামের দেওয়ান পরিবার খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় তারা যা ইচ্ছা তাই করে। সহস্রাধিক একর জমির ধান বৃষ্টি হলেই তলিয়ে নষ্ট হবে জেনেও তারা ব্রিজের মুখটি বন্ধ করে ফ্যাক্টরি স্থাপন করেছে। এ বিষয়ে যারাই প্রতিবাদ করেছে তাদেরকে নানাভাবে লাঞ্ছিত ও হয়রানি করা হয়েছে।

তারা জানান, এ বিষয়টি প্রতিকারের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহানের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

বক্স ফ্যাক্টরির মালিক মো. শাজাহান দেওয়ান জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেই তারা বক্স ফ্যাক্টরি স্থাপন করেছেন। ফ্যাক্টরির জায়গা বাড়ানোর জন্য মাটি ভরাট করায় ব্রিজের মুখ বন্ধ হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসনের সবাই জানেন। এছাড়া জমির ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাবে না। পাশের খাল দিয়ে ওই পানি পশ্চিমে যমুনা নদীতে চলে যাবে।

Tangail-Land

কাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও জেলা প্রশাসককেও অবহিত করেছেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছেন। ইউএনও সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনও করেছেন, কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহান জানান, তিনি কয়েকটি এলাকা পরিদর্শনের সময় ওই এলাকায় গিয়ে থাকতে পারেন। তবে, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত নয়। ওই এলাকার কৃষকরা তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত নয়। ঘটনাটির বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম