কাঁদতে কাঁদতে গণধর্ষণের বর্ণনা দিলো কিশোরী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৮

গাজীপুরে এক কিশোরীকে অপহরণের পর দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে। নির্যাতিত কিশোরীর বাড়ি ময়মনংহের ত্রিশালে। ধর্ষকদের হাত থেকে প্রাণ নিয়ে বেঁচে আসা কিশোরী কাঁদতে কাঁদতে গণধর্ষণের বর্ণনা দিলো পুলিশকে।

বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওই কিশোরী জানায়, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কালার মাস্টারবাড়ি এলাকার একটি পোশাক কারখানার কাজ করার সময় তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে মো. শামীম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

পরে ওই বান্ধবীর কাছ থেকে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে শামীম বিভিন্ন সময় তাকে মোবাইলে প্রেমের প্রস্তাব দিত। কিন্তু সাড়া না দেয়ায় শামীম তাকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।

একপর্যায়ে শামীমের ভয়ে ভালুকা থেকে চাকরি ছেড়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় খালার বাড়ি চলে আসে কিশোরী। এরপরও শামীম মোবাইলে ফোন করে তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানা পুলিশের এসআই মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গত শনিবার বিকেলে মেয়েটি তার খালার বাসা থেকে বের হলে শামীমসহ আরও ৪/৫ জন তাকে অপহরণ করে। তারা মেয়েটিকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে প্রথমে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ও ময়মনসিংহের ভালুকায় নিয়ে যায়। এরপর রোববার রাতে তারা মেয়েটিকে নিয়ে শ্রীপুরের ওয়াদ্দারদিঘী এলাকায় আসে। সেখানে মেয়েটিকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে আটকে রেখে শামীম ও তার সহযোগীরা তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

এসআই মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মেয়েটি যাতে পালিয়ে যেতে না পারে তাই ধর্ষণের পরে তার মুখে কাগজ গুঁজে ও হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে মেয়েটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায় শামীম। পরে তাকে বস্তা থেকে বের করে ওই বাড়ির একটি ঘরের আটকে রাখে।

মঙ্গলবার বিকেলে মেয়েটি কৌশলে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঘটনাটি স্থানীয়দের জানায়। পরে তারা থানায় খবর দিলে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মেয়েটির মামা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। শামীমকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চলছে বলে জানান এসআই মো. মনিরুজ্জামান।

এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।