যেন দেখার কেউ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ১২ মে ২০১৮

দেশ যখন উন্নত দেশের তালিকায় সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে চলছে এবং মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে অনেক। অথচ সেই একই সময়ে রাজবাড়ীর রেলওয়ে শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। রাজবাড়ী রেল স্টেশনে আসা ট্রেনগুলো থেকে সরকারি ও ব্যক্তিগত মালামাল উঠানো-নামানোর কাজ করে দিন শেষে প্রত্যেক শ্রমিকের আয় হয় মাত্র ৬০ থেকে ৭০ টাকা। যা দিয়ে তাদের জীবন জীবিকা চলানো খুবই কষ্টকর।

জানা যায়, ১৯৮১ সালে রাজবাড়ী রেলওয়ে মজদুর শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হলেও সংগঠনটিতে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। রেলওয়ে স্টেশনের একটি জরাজীর্ণ একতলা পুরাতন ভবনের সঙ্গে সংগঠনটির ২৫ জন শ্রমিকের একটি রুম থাকলেও সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী। রুমটির পেছনের দেয়াল ও জানালা ভাঙা এবং সামান্য বৃষ্টিতে টিন দিয়ে পানি পড়ে। রাজবাড়ী স্টেশনে শাটল, মধুমতী, নকশীকাথা, ভাটিয়াপাড়া ট্রেন আশা যাওয়া করে। সেই ট্রেনে আশা সরকারি ক্যাশ সেভ (বাক্স) ও ব্যক্তিগত মালামাল বহন করেন শ্রমিকরা। স্টেশনে শ্রমিকদের এ কাজ যারা করছেন তাদের কেউ সর্বোচ্চ ৬৫ ও সর্বনিম্ন ৩০ বছর ধরে কাজ করছেন।

শ্রমিকরা জানান, কষ্ট করে সরকারি ও যাত্রীদের মালামাল বহন করলেও ন্যায্য মুজরি পান না তারা। তাছাড়া সরকারি মালামাল বহন করলেও সরকারি কোনো সহযোগিতা পান না। ব্যক্তিগতভাবে যাত্রীদের মালামাল বহন করে যে আয় হয় তা দিয়ে কোনো রকম কষ্ট করে সংসার চলাচ্ছেন। তাই তারা সরকারিভাবে কিছু সহযোগিতা কামনা করেছেন।

RAJBARI-RELL2

রাজবাড়ী রেলওয়ে শ্রমিক মজদুর সংগঠনের সভাপতি কালু সরদার জানান, তিনি সেই ব্রিটিশ আমল থেকে রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের মাল উঠা-নামানো কাজ করছেন। কিন্তু জীবন মানের উন্নয়ন হয়নি। প্রথমে তাদের প্রায় ৭০ জনের শ্রমিক ছিল কিন্তু এ কাজ করে সংসার চালাতে না পেরে অন্য পেশায় চলে গেছে। বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। সরকারি ও ব্যক্তিগত মালামাল বহন করে তারা দিন শেষে প্রত্যেকে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পান। এদিয়ে তাদের সংসার না চললেও এটা পুরাতন পেশা। ট্রেনে আশা সরকারি মালামাল বহন করলেও পান না তেমন কোনো মুজরি। এছাড়া কোনো শ্রমিক অসুস্থ হলেও স্টেশন কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেন না।

তিনি আরও জানান, সংগঠনের শ্রমিকদের জন্য একটি রুম থাকলে তা থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দেয়াল-জানালা ভাঙা ও পানি পড়ে টিন দিয়ে। বৃষ্টির সময় যাত্রীদের মালামাল ভিজে যায়। তাই তারা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে সরকার ও রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং তাদের থাকার রুমটিও সংস্কারের দাবি জানান।

media

রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. কামরুজ্জামান জানান, রাজবাড়ী স্টেশনে প্রায় ২২ থেকে ২৫ জন শ্রমিকের কাজ করছেন, যারা সবাই এখন বৃদ্ধ। সরকারিভাবে তারা কোনো ভাতা বা মুজরি পান না। ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। তারা সরকারি রেলের ক্যাশ সেভ উঠানো নামানো করান তার জন্য তাদের যে মুজরি দেয়া হয় তা খুবই নগণ্য আর বিলটা পাকশী অফিস থেকে পাশ হয়ে আসে। এতে তাদের কিছু করার থাকে না। শ্রমিকরা যে রুমটাতে থাকেন সেটির অবস্থা খুবই খারাপ, সেটি সংস্কারের জন্য পত্রের মাধ্যমে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রুবেলুর রহমান/আরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।