খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ১০:৩৪ এএম, ৩০ জুন ২০১৮

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও জায়গার অভাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণি কক্ষ, নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ। শিক্ষার্থীরা চট বিছিয়ে স্কুলের বারান্দা অথবা খোলা আকাশের নিচে বসে লেখাপড়া করছে। ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের ১৭নং এমএস কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির জন্য উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবিরের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা। একমাস আগে বিদ্যালয়ের সেমি পাকা ভবন নিলামে বিক্রি হওয়ার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েও এখন পর্যন্ত অস্থায়ী টিনসেড কক্ষ না করে দেয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা সালমা রশিদ বলেন, এই স্কুলে শিশু শ্রেণিতে ছাত্র ৭০ জন। কিন্তু বারান্দায় বসে ক্লাস করানোর জন্য অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের পাশ্বের নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। অনেক শিশু অনিহা প্রকাশ করছে স্কুলে আসতে। শিশুদের জন্য আলাদা একটি শ্রেণি কক্ষের বিধান থাকলেও শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে ক্লাসে আসতে অনেক শিশু আগ্রহ হারাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সারোয়ার জানান, এবার এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। বিদ্যালয়ে দুই শিফটে ক্লাস চলছে। সকাল ৯টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিশুশ্রেণি, ১ম, ২য় ও ৫ম শ্রেণির ক্লাস। এরপর দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ৩য়, ৪র্থ, ও ৫ম শ্রেণির ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে শিশু শ্রেণির ক্লাস বিরতি রেখে ওই চট আবার খোলা আকাশের নিচে বিছিয়ে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে। ২য় শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষিকা সামিরা আকতার। এ সময় ২য় শ্রেণির ক্লাসে ঢুকে পড়েন শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ামিন আলী, সামিয়া তাসনিম, আরাবি ভৌমিক, ফাল্গুনী ভৌমিক, শান্তা ইসলাম ও তাসমিয়া ইসলাম তানিশা।

তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়- দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষে বসে আছো কেন? জবাবে তারা বলে, আমাদের ক্লাস নাই, তাই ফ্যানের নিচে বসে আছি। এমন পরিস্থিতিতে সহকারী শিক্ষিকা সামিরাও ক্লাস নিতে পারেননি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল বলেন, গত ৩ মে উপজেলা প্রকৌশলী মো. এনামুল কবির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাতদিনের মধ্যে অস্থায়ী ৪/৫টি টিনসেড কক্ষ তৈরি করে দেয়া হবে। কিন্তু এখনো তা তৈরি হয়নি।

তিনি জানান, এসএম কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সেমি পাকা ভবন প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতাভবন ভেঙে নিয়ে চলে গেছেন। কবে কাজ শুরু হবে তা জানি না। এখন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ ফাতেমা বলেন, শিশু শিক্ষার্থীদের কষ্ট হচ্ছে। অস্থায়ী টিনসেড কক্ষ করে দেয়ার জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেও কোনো কাজ হয়নি।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবির বলেন, জুন ক্লোজিংয়ে বেশ ব্যস্ত। ওই বিদ্যালয়ের কাজের টেন্ডার হয়েছে, ধ্রুব কনস্ট্রাকশন কাজ পেয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু করব।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, খবর নিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

আলাউদ্দিন আহমেদ/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।