সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে সন্তানসহ জেলে গৃহবধূ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৮

বগুড়ার ধুনটে ফরিদ উদ্দিন নামে এক বখাটের হাত থেকে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে শিউলী খাতুন নামে এক গৃহবধূকে তার দেড় বছরের শিশুকন্যাসহ জেলে যেতে হয়েছে।

একই কারণে তার স্বামী, ভাশুর ও জাকেও জেলে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের আবদুল বারিকের স্ত্রী শিউলী খাতুনকে পার্শ্ববর্তী ধেরুয়াটি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মথুরাপুর বাজারের পাহারাদার ফরিদ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে গ্রামে কয়েকবার সালিশ-দরবারও হয়েছে। এরপরও ফরিদ সংশোধন হয়নি।

গৃহবধূ শিউলী খাতুন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে স্বামী আবদুল বারিক বাড়িতে না থাকায় তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে ফরিদ উদ্দিন কৌশলে বাইরে থেকে ঘরের দরজা খুলে তার শয়নঘরে ঢোকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

এ সময় তার চিৎকারে পাশের ঘর থেকে জা রেখা খাতুন বেরিয়ে আসেন। পরে দুই জা বখাটে ফরিদকে লাঠিপেটা করেন। এতে ফরিদের মাথা ফেটে যায়।

ফরিদের ভাই ফটু মিয়া রাতেই তাদের পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলা পেয়ে রাত ১২টার দিকে শিউলী, স্বামী আবদুল বারিক, ভাশুর আনিসুর রহমান ও জা রেখা খাতুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর ভাশুর মহসিন আলী না থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মহসিন আলী অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা পাওয়ার পর তদন্ত ছাড়াই মামলা রেকর্ড করে। আর দেড় বছরের শিশুকন্যাসহ দুই ভাই ও দুই ভাবিকে গ্রেফতার করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধুনট থানা পুলিশের এসআই শফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি তদন্ত করে গৃহবধূ শিউলীর অভিযোগের সত্যতা পাননি। ফরিদ উদ্দিন নৈশপ্রহরী। রাতে ওই গৃহবধূর ঘরে যাতায়াতকারীদের অনুসরণ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফরিদকে মারধর করেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ধুনট থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) ফারুকুল ইসলাম বলেন, ফরিদ উদ্দিন ওই গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করত- এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। আহত ফরিদ উদ্দিনকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মামলা পাওয়ার পর রাতেই শিউলীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :