এতিম শিশুটিকে মেরে রক্তাক্ত করলেন শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় মাদরাসার এক এতিম শিশুকে মেরে রক্তাক্ত করে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক। আহত শিশুটি ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।

শিশুটির নাম মো. শাকিল (১১)। সে ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের মহিবুলের ছেলে ও দেবীপুর হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দেবীপুর হাফিজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। শাকিলের মা সজিনা খাতুন মারা যাওযার পর তার বাবা পুনরায় বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায়। সেই থেকে শাকিল নানা সাব্দুল মিয়ার বাড়িতে থাকে।

নির্যাতনের শিকার শাকিল ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দেবীপুর হাফিজিয়া মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হাবিব উদ্দিনের ১৫০ টাকা শাকিল চুরি করতে পারে এমন সন্দেহে শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় সে টাকা নেয়নি বলে জানায়। পরে মাদরাসার ঘরের ভেতর নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে শিক্ষক হাবিব। খবর পেয়ে নানা দিনমজুর সাব্দুল মিয়া শাকিলকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সঞ্জয় কুমার বলেন, শাকিলের শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শরীরের অনেক জায়গা আঘাতের কারণে ফুলে গেছে। সারা শরীরে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্যাতনকারী শিক্ষক হাবিব জানান, তিনি টাকা চুরির অপরাধে শাকিলকে একটু শাসন করেছেন বলে ফোন কেটে দেন।

দেবীপুর হাফিজিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষক বায়োজিদ বোস্তামির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, নির্যাতনের ঘটনাটি আমি শুনেছি। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

ফুলবাড়ী থানা পুলিশের ওসি শেখ নাসিম হাবিব বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এতিম শিশুটিকে পুলিশের নির্দেশ ছাড়া হাসাপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া বা কেউ যেন নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।