তাঁবু ছেড়ে ঘরে উঠলেন কুলসুম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৮

গৃহহীন বৃদ্ধা কুলসুম খোলা আকাশের নিচে একটি পলিথিনের তাঁবুতে বসবাস করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হলে সবার নজরে আসে। অবশেষে ঘর পান টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের কড়াইল-স্বল্পবড়টিয়া গ্রামের ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা কুলসুম।

সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই বৃদ্ধার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। সবার সহযোগিতায় এই বৃদ্ধাকে টিনের একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। তার ঘরকে ‘মানবতার ঘর’ নামে আখ্যা দেন স্থানীয়রা।

Tangail-Patick

সোমবার ঘরটি তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। ঘরে পেয়ে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা কুলসুম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন রোদ-বৃষ্টি-ঝড় মাথায় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করেছি। সবাই সহযোগিতা করে আমাকে ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। আমি সবার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ সবাইকে সুখে রাখুক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কড়াইল-স্বল্পবড়টিয়া গ্রামের বৃদ্ধা রেহেনা বেগম কুলসুম এক বছর হলো বিধবা হয়েছেন। গত বছর মারা যান কুলসুমের দিনমজুর স্বামী সোনা মিয়া।

তখন থেকে কুলসুমের পরিবারে নেমে আসে অসচ্ছলতা। জোড়াতালির ছোট একটি ঘর থাকলেও অভাবের সংসারে সেটি বিক্রি করে দেন। পরে মা-ছেলে ও নাতি সবাই চলে যান টাঙ্গাইল সদরের কাকুয়া চরে ছেলে মোশারফের শ্বশুরবাড়ি। সেখানে পুত্রবধূ আছমা পরিবারের একমাত্র সম্বল দুটি গরু রেখে মা-ছেলেকে তাড়িয়ে দেন। নাতনি মরিয়ম মায়ের কাছে থেকে গেলেও বাবার সঙ্গে চলে আসে ছেলে আসলাম। এরপর থেকেই ওই ঝুপড়িতে থাকেন তারা।

Tangail-Patick

এমন দৃশ্য দেখেও সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রকার সহযোগিতা মেলেনি রেহেনার ভাগ্যে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও কোনো প্রকার সহযোগিতা পাননি তারা। পাননি বয়স্ক ভাতাও। না ভাগ্যে জুটেছে ভিজিএফের কার্ড। পরে এ নিয়ে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপরই স্থানীয় প্রশাসন কুলসুমের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। পাশাপাশি স্থানীয়রাও তাকে সহযোগিতার হাত বাড়ান।

দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদিরা আক্তার ঘর নির্মাণের জন্য বৃদ্ধা কুলসুমকে ৩০ হাজার টাকা দেন। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহমেদ কুলসুমের বাড়ি পরিদর্শন করে নাতি আসলামকে স্কুলড্রেস কেনার টাকা দেন এবং উপবৃত্তি পাওয়ার আশ্বাস দেন।

Tangail-Patick

এছাড়া দেউলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম সাচ্চু ১০ হাজার টাকা দিয়ে কুলসুমকে সহায়তা করেন। আটিয়া ইউনিয়র পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক মিয়া ৩ বান্ডিল টিন কিনে দেন।

দেউলি ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোশারফ বাপ্পি কুলসুমের ঘর তৈরি করতে যাবতীয় কাঠের যোগান দেয়াসহ ঘর নির্মাণের তদারকি করেন। এছাড়া স্থানীয় অনেকে এগিয়ে আসেন কুলসুমের সহায়তায়। এমন অসংখ্য সহযোগিতায় তৈরি হয় বৃদ্ধা কুলসুমের টিনের ঘর। জয় হয় মানবতার, তৈরি হয় এই মানবতার ঘর। অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোসহ বসবাসের ঘর করে দেয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বৃদ্ধা কুলসুম।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।