নৌকার মাঝি হতে চান ‘শিক্ষক বন্ধু’ শাহজাহান আলম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১১:৩৪ এএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮

‘সাড়ে ২৭ বছর শিক্ষকতা করেছি। স্কুল ও সরকার থেকে টাকা পেতাম, টিউশনি করতাম। দারিদ্র্য যে কি জিনিস আমি বুঝতাম না। কিন্তু অবসর নেয়ার পর স্কুল ও সরকারি টাকা এবং টিউশনি বন্ধ হয়ে যায়। বাসা ভাড়া ও সংসার খরচসহ সবকিছু মিলিয়ে ২৭/২৮ হাজার টাকা লাগে প্রতি মাসে। ব্যাংকে কিছু টাকা ছিল সেগুলো শেষ হয়ে যাওয়ায় ধারের জন্য হাত পাতি। অনেক পয়সাওয়ালার কাছে হাত পেতেছি, কিন্তু তারা আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার পরিবারটা আমার সামনে ডুবে যাচ্ছিল, উনি (শাহজাহান আলম সাজু) দেবতা হয়ে সেটা রক্ষা করলেন।’

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষকদের একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে কথাগুলো বলেছিলেন পরিমল ভৌমিক নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। আর যাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলা তিনি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু।

শিক্ষক পরিমল ভৌমিকের মতো সারাদেশের বিপদগ্রস্ত অসংখ্য শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন শাহজাহান আলম সাজু। তাদের হৃদয়ে মানুষরূপে দেবতার স্থান পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সংগ্রাম করা সাজু শিক্ষকদের আস্থা ও ভালোবাসায় ‘শিক্ষক বন্ধু’ হিসেবে ভূষিত হয়েছেন।

সাজুর প্রচেষ্টায় সম্প্রতি সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেয় সরকার। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে সারাদেশে আনন্দ শোভাযাত্রাও করেছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষক নেতাদের দাবি, সাজু সংসদে প্রতিনিধিত্ব করলে তাদের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) সাধারণ সম্পাদক সাজু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাজু ইতোমধ্যে দলীয় কার্যালয়ে তার মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। সাজু ছাড়াও এ আসনে আরও ১৯জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান।

তবে সাজুর প্রতি আস্থা রেখে জাতীয় সংসদে সারাদেশের শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তাকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। ইতোমধ্যে সাজুকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিতে ঢাকায় শিক্ষকসহ ও সর্বস্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে মনোনয় জমা দেয়া অন্য প্রার্থীদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ‘ক্লিন ইমেজ’র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন অধ্যক্ষ সাজু। এলাকায় জোর প্রচার-প্রচারণাও চালিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন জনসম্মুখে তুলে ধরতে তিন শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে রোডশোও করেছেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) সভাপতি জয়নাল আবেদিন জাগো নিউজকে বলেন, অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু সারাদেশের শিক্ষক সমাজের জন্য যুগপোযোগী নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারীদের পেশাগত অধিকার এবং মর্যাদা আদায়ে তিনি খুবই সোচ্চার।

আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাশিপের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, সাবেক ছাত্র নেতা সাজু সরকারি চাকরিতে না গিয়ে শিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষকতা পেশায় চলে আসেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন। সংসদে আমাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। আমরা চাই শাহজাহান আলম সাজু শিক্ষকদের প্রতিনিধি হয়ে জাতীয় সংসদে আমাদের কথা বলুক।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, সরাইল-আশুগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের ঘরে-ঘরে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরেছি। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও ক্ষমতায় আনার জন্য ভোটারদের অনুরোধ জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে সরাইল-আশুগঞ্জ আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আমি আসনটি উপহার দেব।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।