‘আত্মসমর্পণ না করিলে ক্রসফায়ার’
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জলদস্যুতা ও ডাকাতিতে সম্পৃক্তদের আত্মসমর্পণে ‘জরুরি নোটিশ’ দিয়েছেন লেমশীখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও উপজেলা শ্রমিকলীগ আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম। তার বেঁধে দেয়া সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে এসব দুর্বৃত্তদের র্যাবের মাধ্যমে ক্রসফায়ার দেয়া হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে ওই নোটিশে।
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে পাঠ করার জন্য মসজিদের খতিবদের কাছে তার সিলসহ স্বাক্ষরযুক্ত নোটিশটি পাঠানো হয়। ইমামদের কাছে পাঠানো ছাড়াও নিজের ফেসবুক একাউন্টে তিনি নোটিশটি আপলোড করেন।
ক্রসফায়ারের মতো আইনবিরোধী কর্মের প্রকাশ্য হুমকির বিষয়ে জানতে সংবাদকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নোটিশটি তুলে নেন। একইসঙ্গে শনিবার রাতে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে আরেকটি নোটিশ নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। তবে এটিও আপলোডের ৩০ মিনিট পর তুলে নেন নুরুল ইসলাম।
তবে প্রথম নোটিশটি প্রচার হওয়ার পর থেকেই পুলিশ ও র্যাবসহ সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। কুতুবদিয়া থানা পুলিশ তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে আখ্যা দিয়েছে। আর র্যাব বলছে তাকে তারা চেনেও না।
নুরুল ইসলোমের সেই নোটিশে বলা হয়- ‘জরুরি নোটিশ।
পাঠক, সম্মানিত মসজিদের খতিব সাহেব/ মাধ্যম।
জনাব,
সম্মানিত মুসল্লীগণ, আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের ও সমাজের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আপনাদের নিজ পাড়ায়, মহল্লায়, সমাজে ও এলাকার যে সমস্ত পরিবারের ছেলেরা ডাকাতি বা সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত তাহাদের পিতা-মাতা বা সমাজের অভিভাবকদের অবগত করা হচ্ছে যে, আগামী ২৪/২৫ নভেম্বর ২০১৮ইং তারিখের মধ্যে র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করার জন্য জনাব নুরুল ইসলাম মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যারা আত্মসমর্পণ করিবেন তাদেরকে সরকার কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ও পূনর্বাসন করা হইবে।
অন্যথায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করিলে গ্রেফতার পূর্বক ক্রসফায়ার দেওয়া হইবে।
নোট-বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। তারিখ-২৩/১১/২০১৮ ইং, বিশেষ অনুরোধক্রমে- মো. নুরুল ইসলাম (এম.ইউ.পি), আহবায়ক, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কুতুবদিয়া উপজেলা শাখা।’
কিন্তু শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার এফবি আইডি নুরুল ইসলাম কুতুবী এমইউপিতে ওই নোটিশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আরেকটি ক্ষমাপ্রার্থী নোটিশ দেয়া হয়।

সেখানে বলা হয় ‘ক্ষমাপ্রার্থী ও দুঃখিত। আমি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (এম.ইউ.পি) ২নং ওয়ার্ড, লেমশিখালাী ইউনিয়ন পরিষদ, কুতুবদি, কক্সবাজার। কক্সবাজার জেলা কুতুবদিয়া উপকূলে উত্তর লেমশিখালী করলাপাড়া এলাকায় ইতিপূর্বে জলদস্যূ সর্দ্দার দিদার ও মানিক র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। তারই সুবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে করলাপাড়া এলাকায় জলদস্যূ পরিবারের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের অভিভাবকদের জলদস্যূ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করি। এছাড়াও এলাকার প্রতিটি মসজিদে জুমার নামাজে খুতবাহ পাঠের পূর্বে জলদস্যূ ও সন্ত্রাসীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করার জন্য বলা হয়েছে। ভাষাগত কারণে আমার ফেসবুক আইডিতে ভুলবশত গ্রেপ্তার ও ক্রসফায়ার কথাটি লেখার কারণে ফেসবুক বন্ধু, মিড়িয়া ব্যক্তিরা ও সচেতন মহলসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট ক্ষমাপ্রার্থী। এ ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
ক্ষমাপ্রার্থী-মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (এম.ইউ.পি), ২নং ওয়ার্ড লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদ, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।’
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌস বলেন, নুরুল ইসলাম মেম্বার মানসিক বিকারগ্রস্ত। এমনিতে অপরাধী ধরতে পুলিশকে কখনো সহযোগিতা দেননি। কিন্তু এসব নোটিশ কী কারণে করলেন সেটা জানি না। এটি চরম ধৃষ্টতা। আইনবিরোধী ক্রসফায়ারের হুমকি তিনি কখনও দিতে পারেন না। শনিবার সকাল থেকে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। শুনেছি শনিবার রাতে ক্ষমা চেয়ে আরেকটি পোস্ট করেছে মেম্বার নুরুল ইসলাম।
এদিকে র্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর মেহেদী হাসান বলেন, মেম্বার নুরুল ইসলামের সেই নোটিশটি আমাদের হাতে এসেছে। তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। কে বা কারা এটি করলো খোঁজ নেয়া হচ্ছে। কোনো অন্যায়ের সঙ্গে র্যাবের সম্পৃক্ততা নেই।
জরুরি নোটিশ সম্পর্কে জানতে মেম্বার নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তা বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/পিআর