বগুড়া-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নিয়ে ধূম্রজাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসনে বিএনপির দুইজন মনোনয়ন পাওয়ায় ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন ধানের শীষ এ নিয়েই চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে বিএনপির দলীয় চিঠি নিয়ে দুই প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দুই প্রার্থীর সমঝোতা না হলে দলীয় কোন্দল ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা করছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর ও ধুনট উপজেলার ১০টি করে ইউনিয়ন ও একটি করে পৌরসভা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসন। এর মধ্যে শেরপুর উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৩ হাজার ৭১৫ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৩৩ জন। এছাড়া ধুনট উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৫৪৩ জন ও নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৬ জন।

স্বাধীনতার পর প্রথম ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাংবাদিক আমানউল্লাহ্ খান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফেরদৌস জামান মুকুল, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান আলী তালুকদার নির্বাচিত হন।

এছাড়া ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি নির্বাচন হন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবর রহমান এমপি নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়া জেলার প্রায় সব কয়টি আসনই এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেলেও পরপর দুই বার বগুড়া-৫ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকায় দলটির ভীত আরও মজবুত হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই এ আসনে দলটির ভীত মজবুত করেছে। তাই এই নির্বাচনে দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষের মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন। তবে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও বিএনপির দুই জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং ও দলীয় কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংস্কারপস্থী হওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে বাদ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও শেরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জানে আলম খোকাকে। কিন্তু তিনি নিজ দলের গ্রুপিংয়ের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের কাছে পরাজিত হন।

বিএনপি নেতা জানে আলম খোকা বলেন, দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এ কারণে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। শেষ মুহূর্তে ধানের শীষ প্রতীক পাবো বলে আশি করছি। ধানের শীষ প্রতীক পেলে এ আসনটি পুনরুদ্ধার হবে।

অপর প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। ২০০৮ সালে সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় এলাকায় আসেননি এবং রাজনীতি থেকেও দূরে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবারও দলে ভিড়েছেন এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত রয়েছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, বিএনপির হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে মাঠে থাকবো। জনগণ বিপুল ভোটে আমাকে বিজয়ী করবে বলে আমি আশাবাদী।

লিমন বাসার/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]