প্রার্থী তালিকায় সিলেটের ৬ রাজাকারপুত্রের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে রাজাকারপুত্রদের মনোনীত না করার দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা কমান্ড। শুক্রবার সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এক ই-মেইল বার্তায় এ দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পাঠানো তালিকা থেকে মোট ৬ জনকে চিহ্নিত করে তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পাঠানো তালিকা থেকে চিহ্নিত করা ৬ আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে একজন সরাসরি রাজাকার। অন্য পাঁচজন রাজাকারপুত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাসিব মুনিয়া, একই উপজেলার আওয়ামী লীগের সহ-দফতর সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, একই উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলী, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল এবং কানাইঘাট উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাতবাঁক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশকে রাজাকারপুত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো ওই ই-মেইলে সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল উল্লেখ করেন, বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে জাতি আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহান স্বাধীনতা তথা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং জামায়াত-শিবিরের সন্তান বা তাদের পরিবারের সদস্যদের মনোনয়ন না দেয়ার জন্য একান্তভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।

ই-মেইলে আরও বলা হয়, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় থাকা জৈন্তাপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী জৈন্তাপুর এলাকার কুখ্যাত রাজাকার ওয়াজিদ আলী টেনাইর ছেলে। এছাড়া একই উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল আহমেদের বাবা হাজী মনির উদ্দিন ও চাচা মাস্টার আজির উদ্দিনও রাজাকার ছিলেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাসিব মুনিয়া নিজে রাজাকার এবং বাবা আবদুল খালিক শান্তি কমিটির সদস্য (আলবদর) ছিলেন। একই উপজেলার আওয়ামী লীগের সহ-দফতর সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল চন্দগ্রামের কুটুচান্দ রাজাকারের সন্তান। তাছাড়া গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলালের বাবা আজির উদ্দিন একাত্তরে থানা শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন। কানাইঘাট উপজেলার ৪ নম্বর সাতবাঁক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশের বাবা আবদুল মন্নানও একাত্তরে রাজাকার ছিলেন বলে ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল জাগো নিউজকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাই তাদের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক প্রত্যাশা। রাজাকারদের সন্তানমুক্ত প্রশাসন ও দল গড়তে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই আমাদের দাবির পক্ষে অবস্থান নেবেন বলে আমার বিশ্বাস।

জুয়েল আরও বলেন, আমরা চাই কোনো যুদ্ধপরাধী রাজাকার কিংবা তাদের উত্তরসূরীরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা না পাক। আমাদের প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো হবে রাজাকার ও রাজাকারের সন্তানমুক্ত।

ছামির মাহমুদ/এফএ/পিআর