এএসপি ছয়রুদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

যশোরের মণিরামপুর থানা পুলিশের সাবেক ওসি বর্তমানে মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ছয়রুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন যশোরের একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, যশোরের মণিরামপুর থানার গাবরডাঙ্গা গ্রামের মৃত অজিত ঘোষের ছেলে প্রভাষ চন্দ্র ঘোষ ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। মামলার একমাত্র আসামি মণিরামপুর থানার ওসি ছয়রুদ্দিন আহমেদ। আদালত ওই বছরের ৩০ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর সমন্বতি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। দুদকের তদন্তে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার ৫ একর জমিতে ইরি ধান চাষাবাদ করেন। এলাকার ৮ জন ব্যক্তি বাদীর রোপণকৃত ইরি ধান কেটে নেয়ার জন্য দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর মণিরামপুর থানার ওসি ছয়রুদ্দিন আহমেদের কাছে যান। বাদীর সঙ্গে বিবাদকারীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই গাজী আবদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে মণিরামপুর থানার তৎকালীন ওসি ছয়রুদ্দিন আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০১১ সালের ৪ মে বাদীর ৫ বিঘা জমির ১৫০ মণ ধান কেটে মাড়াই করে থানায় নিয়ে আসেন। যার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ধান ও বিচালি থানায় নিয়ে আসামি নিজের জিম্মায় রাখেন। বাদী বার বার মণিরামপুর থানায় গিয়ে ধান ও বিচালি চাইলে তার কাছে ৫০ হাজার টাকার ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কোনো দিন ধানের টাকা দেয়া হবে না বলে জানানো হয়। ধানের দাম চাইতে বার বার থানায় গেলে তাকে পেন্ডিং মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন ওসি।

২০১১ সালের ৩০ আগস্ট বাদী মণিরামপুর থানায় গিয়ে আসামি ছয়রুদ্দিন আহমেদের কাছে গিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে অনুরোধ করেন তার জিম্মায় থাকা ধান ফেরত চান।

২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে বাদী মণিরামপুর থানায় গিয়ে আসামির কাছে ধান ফেরত চান। কিন্তু দাবি অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা না দিলে ধান ফেরত দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। তখন বাদী ঘুষের ২০ হাজার টাকা ফেরত চান। আসামি বলেন, সেই টাকা হজম হয়ে গেছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে জেলে ভরে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। ক্রসফায়ার ও কিলার দিয়ে হত্যা করারও হুমকি দেন আসামি।

জানতে চাইলে মণিরামপুর থানার সাবেক ওসি বর্তমানে মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার ছয়রুদ্দিন আহমেদ বলেন, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না।

মিলন রহমান/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।