কারাবন্দিদের কাছ থেকে ভ্যাট চায় কাস্টমস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
ফাইল ছবি

আইন অনুযায়ী প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকান, রেস্তোরাঁ থেকে পণ্য কেনার সময় ভ্যাট দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিলেও সেদিকে নজর নেই সংশ্লিষ্টদের। কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে আটক বন্দীদের ভালো রাখতে যখন সরকার তৎপরতা চালাচ্ছে তখন যশোর কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ বন্দীদের থেকেই ভ্যাট আদায়ের জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে।

জানা গেছে, কারাগারে যেসব বন্দী থাকেন, তারা কারা অভ্যন্তরে অবস্থিত ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে খেতে পারেন। কারা সংস্কার আইনে দেশের সব কারাগারে এ রকম ক্যান্টিন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি চলে আসছে। কিন্তু যশোর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্দীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়পূর্বক তা জমা দেয়ার জন্য গত সোমবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে চিঠি দিয়েছে। (পত্র নং-৪র্থ/এ(৬)১২/বিবিধ/মূসক/১৭/৫৭০ তারিখ-২৫.০২.২০১৯)।

একটি সূত্র জানায়, সরকার কারাগারে আটক বন্দীদের ক্যান্টিন থেকে কিনে খাবার সুবিধার জন্য উৎপাদন বিভাগ থেকে টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ যেসব বন্দী কারাগারে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য উৎপাদন করে, সেই দ্রব্য বিক্রি করে যে অর্থ আসে, সেখান থেকে বন্দীদের টাকা দেয়া হয়। সে মোতাবেক মানবিক কারণে যশোর কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের টাকা প্রদান করছে। সেখানে হঠাৎ করে কারা ক্যান্টিন থেকে ক্রয়কৃত পণ্যের উপর ভ্যাট প্রদানের খবরে বন্দীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন্দীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করার কোনো নির্দেশনা সরকার দিয়েছে কিনা আমরা জানি না। আমরা এ ধরনের কোনো চিঠি পাইনি। তবে বন্দীরা ক্যান্টিন থেকে যে খাবার ক্রয় করে তার উপর ভ্যাট দিতে হবে বলে যশোর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একটি চিঠি দিয়েছে।

মঙ্গলবার সদ্য কারামুক্ত কয়েকজন বন্দী জানান, বন্দীদের কারাগারে কোনো প্রকার ভ্যাট দিতে হয় না এটা জানি। এখন শুনছি ভ্যাট আদায় করা হবে। এটা অত্যন্ত অমানবিক।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবু তালেব সাংবাদিকদের বলেন, দেশে ৬৮টি কারাগার আছে। এখান থেকে ভ্যাট আদায়ের কোনো নিয়ম নেই। বন্দীদের খাবার কেনার জন্য সরকার যেখানে উৎপাদন খাত থেকে টাকা দিয়ে থাকে সেখানে উল্টো বন্দীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের চিঠিতে আমরা হতবাক হয়েছি।

এ ব্যাপারে কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট যশোর অফিসের সহকারী কমিশনার এইচএম কবির জানান, আমরা সরেজমিন কারাগারের ক্যান্টিন থেকে খাবার বিক্রির চিত্র দেখেছি। সেখানে শুধুমাত্র শুকনা খাবার বিক্রি হয়। তবে আমরা বলেছি সরকারের যা রাজস্ব আসে তাই আমাদের দেয়া হোক।

মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :