সকালে হাসপাতালে হাজিরা দিয়ে কোথায় যান ডাক্তাররা?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের জন্য দেশ ও প্রশাসন। কিন্তু সব বিভাগে জনগণ সেবাবঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে। সেবা পেলে অভিযোগ আসবে কেন?

‘জনতাই শক্তি রুখবে দুর্নীতি’ স্লোগানে কক্সবাজারে দুদকের গণশুনানিতে বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে জনতার অভিযোগের পর উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলমান গণশুনানিতে তিনি বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন বিভাগ থেকে হাজার হাজার অভিযোগ আসছে দুদকে। জনগণ সেবা পেলে কেন এত অভিযোগ তুলছেন? কেন জনগণ সেবা পচ্ছে না? সেটি জনগণের মুখে বয়ান হলো আজ। এটি আমাদের জন্য লজ্জার।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার অভিযোগের বিষয়ে দুদক কমিশনার বলেন, সকালে হাসপাতালে হাজিরা দিয়ে ডাক্তাররা কোথায় যান? এটি নজরে রাখুন। আমি দেশের অন্তত ২৫টি সরকারি হাসপাতাল গেছি। শিক্ষিত মানুষে ভরপুর এসব হাসপাতাল অথচ ব্যাপক অনিয়মে ভরা। সরকারি হাসপাতালে তো এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জটিলতা দ্রুত সমাধান করুন।

দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে দুদক কমিশনার আরও বলেন, দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাবেন, এমনটা ভাবার অবকাশ নেই। কঠোর শাস্তির মুখামুখি হতে হবে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের।

Cox's-Bazar-1,-News-(1)

কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দীন মিলনায়তনে গণশুনানিতে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাবঞ্চিত সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর যথাযথ সমাধান না করে উল্টো ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপস্থিত সেবাবঞ্চিতরা।

অভিযোগকারী নাজিম উদ্দীন বলেন, কথায় কথায় সদর হাসপাতালে ধর্মঘটের কারণে দুই সপ্তাহে ২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রার্থীদের মারধর করে জেলে পাঠিয়েছেন ডাক্তাররা। রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে খাবারের মান খুবই নিম্নমানের। দেখভালের দায়িত্বে কেউ নেই।

উত্তর-পর্বে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বিধান পাল এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় উপস্থিত সবার মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে।

গণশুনানিতে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিস, জরিপ অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, পল্লীবিদ্যুৎ অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস, পিআইও অফিস, সমবায় অফিস, সমাজসেবা অফিস, যুব উন্নয়ন অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ আরও কয়েকটি সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে গণশুনানির বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও অভিযোগের সমাধান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাবেক পিপি মো. জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমকেএইচ