চরভদ্রাসন নদী পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১০:১১ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৯

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদী পারাপারে গোপালপুর ঘাট থেকে মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটে ট্রলার ও স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে যাত্রীদের মারধর ও হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গোপালপুর থেকে মৈনট ঘাটে ট্রলারে ভাড়া ছিল ৮০ টাকা এবং স্পিডবোটে ১৫০ টাকা। গত ১৪ এপ্রিল থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। মাত্র ৬ কিলোমিটার পার হতে দিনে ট্রলারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রী প্রতি ১০০ টাকা এবং স্পিডবোটে ১৭০ টাকা।

সন্ধ্যা হলেই যাত্রী প্রতি স্পিডবোটে ৫শ থেকে ৮শ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। এ নিয়ে ঘাট ইজারাদারের সঙ্গে যাত্রীদের প্রতিনিয়ত বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফরিদপুর, সদরপুর, ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন, নগরকান্দাসহ দূর-দূরান্তের যাত্রীরা গোপালপুর-মৈনট ঘাট দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে। এ ঘাটের যাত্রী পারাপারের জন্য ২০টি ট্রলার ও ১৮টি স্পিডবোট রয়েছে।

FARIDPUR-2.jpg

প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার যাত্রী এ ঘাট দিয়ে পদ্মা নদী পার হয়। মাত্র ৫ মিনিট পর পর ছোট-বড় প্রতি স্পিডবোটে ১০ থেকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে নদী পার হচ্ছে। এতে কোনো লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা নেই।

ট্রলারে নদী পার হয়ে গোপালপুর ঘাটে আসা মো. নুরু মিয়া জানান, ঘাট কর্তৃপক্ষ ট্রলার যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যপারে কয়েক যাত্রী প্রতিবাদ করায়, তাদের কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে নির্যাতন করা হয়েছে। এখন এ ঘাট দিয়ে যাতায়াত করা চরম অনিরাপদ বলে মনে করেন তিনি।

ট্রলার চালক হিরো মিয়া জানান, যাত্রী প্রতি ১০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করি সত্য, কিন্তু একশ টাকার মধ্যে ৭০ টাকাই ঘাট ইজারাদার আমাদের কাছ থেকে টোল হিসেবে নিয়ে যায়। নৌকা মালিকের থাকে মাত্র ৩০ টাকা। এ টাকার মধ্য থেকে তেল খরচ, কর্মচারী, মজুরি ও ট্রলার মালিকের অংশ দিতে হয়। তাই যাত্রীরা ভাড়া কম দিলে চালকদের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

স্পিডবোট চালকরা জানান, যাত্রী প্রতি ১৭০ টাকা ভাড়ার মধ্যে ১১০ টাকা নিয়ে যান ঘাট ইজারাদার। বাকি ৬০ টাকা দিয়ে তেল খরচ, কর্মচারী, মজুরীসহ বোট মালিকের মুনাফা দিতে হয়।

আরেক যাত্রী উপজেলার চরসুলতানপুর গ্রামের মোরাদ বেগ (৪০) জানান, প্রতিদিন বিকেল ৫টার পর এ ঘাটের যাত্রীদের প্রতি চরম অবিচার করা হয়। সন্ধ্যা হলে কোনো কোনো স্পিড বোটে যাত্রী প্রতি ৫শ টাকা নেয়া হয়। কারণ জিজ্ঞেস করলে ঘাট মালিকরা কোটি কোটি টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছেন বলে অজুহাত দেন।

স্পিডবোটের যাত্রী পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা সোলাইমান হোসেন বলেন, ১৭০ টাকা দিয়ে নদী পার হয়ে এসেছি। একটু কম দিতে চাওয়ায় আমার উপর চড়াও হয় চালক। দেশের কোথাও নদী পারে এতো টাকা লাগে না। ইজারাদাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছে।

ইজারাদার বাবুল শিকদার বলেন, আন্তঃজেলা ঘাট হিসেবে ঢাকার কমিশনার অফিস থেকে এ বছর ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং ভ্যাট আইটি মিলে মোট পৌনে ৬ কোটি টাকা দিয়ে নুরুল ইসলাম পাটনির নামে এ ঘাট এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। লাভবান হতে নয়, বরং পুঁজির টাকা উঠানোর জন্য ট্রলার ও স্পিড বোটের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

FARIDPUR-2.jpg

ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিশনার অফিস থেকে ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়। তবে কমিশনার অফিসের লিখিত কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

ঘাটে যাত্রীদের হয়রানির ব্যাপারে বাবুল শিকদার বলেন, আমি ঘাটে ছিলাম না। তবে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে শুনেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, তিন দিন আগে এ ঘাটের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়ে ইজারাদারকে ডেকে এনে ভাড়া কমানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছি এবং ঢাকার কমিশনার অফিসকে বিষয়টি অবগত করেছি।

তিনি আরও বলেন, ১৫ দিনের সরকারি সফরে শনিবার রাতে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছি। ফিরে এসে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বি কে সিকদার সজল/এমএসএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :