ইভিএম’ই সুষ্ঠু নির্বাচনের ভালো উপায় : সিইসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ইভিএম নিয়ে অনেক সমালোচনা হবে, ভুল-ভ্রান্তিও থাকতে পারে, তবু আমি মনে করি ইভিএম’ই সুষ্ঠু নির্বাচনের একটি বড় ধরনের ভালো উপায়। আগামীতে সব নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি চালু করা হবে। নির্বাচনকে ডিজিটাল করার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফরিদপুর সদর উপজেলার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফরিদপুরে আগে যে ৫টি আসন ছিল, সেটাই সঠিক ছিল। ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর নিয়ে সাবেক নির্বাচনী আসন পুনর্বহালের দাবির প্রতি সম্মতি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ফরিদপুরসহ ৫টি জেলার নির্বাচনী আসন পুণর্বিন্যাস করার জন্য কাজ করছি। এ ৫টি এলাকাকে ঢাকার সঙ্গে সামিল করার প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তবে ২০২১ সালের আদম শুমারীর আগে সেটার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ, সমগ্র দেশের নির্বাচনী আসন নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌগলিক এলাকাভিত্তিক ভাবে আসন বিন্যাস করতে হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্মাট কার্ড এখন আরও প্রযুক্তি নির্ভর। এর মধ্যে ২৮ ধরনের তথ্য থাকে। যাদের নাম একবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় তারা জাতীয় ডাটাবেইজে চলে আসেন। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সকল নির্বাচন আমরা এরকমভাবে করতে চাই। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা, ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নূরুজ্জামান তালুকদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোবাশ্বের হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুজ্জামান ও ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা।

cec

অনুষ্ঠানে স্থানীয় ৪৬ জন বিশিষ্ট নাগরিকের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। পর্যায়ক্রমে ফরিদপুর সদর উপজেলার ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৮ জন ভোটারকে দেয়া হবে এ স্মার্ট কার্ড।

এর আগে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ হল রুমে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তির সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

উল্লেখ্য, আগে ফরিদপুর জেলায় নির্বাচনী আসন ছিল ৫টি। চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা মিলে এক সময় ছিল ফরিদপুরের-৪ আসন বর্তমানে যেটি ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে গঠিত। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও নানা হস্তক্ষেপে এ আসনটি বাদ দেয়ার সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না উল্লেখ করে ওই মতবিনিময় সভায় এ আসনটি পুনরুদ্ধার করার আশ্বাস দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর উপজেলাবাসী তাদের অতি কাছের মানুষ (চরভদ্রাসন উপজেলার সাবেক ইউএনও) সিইসি কেএম নুরুল হুদাকে কাছে পেয়ে জাতীয় নির্বাচনের জন্য এ আসনটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।

এ উপজেলায় দ্রুত স্মার্ট কার্ড দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদানের পাশাপাশি পদ্মা নদী বেষ্টিত এ উপজেলার চরাঞ্চলে একটি পর্যটন কেন্দ্র করার ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যানকে একটি প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠাতে পরামর্শ দেন সিইসি।

বি কে সিকদার সজল/এমএএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :