আতঙ্কে ক্লাস চলে এ ভবনে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ বছরের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ঐতিহ্যবাহী কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন দ্বিতল বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবনের ১১টি কক্ষে চলছে অফিস ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ঝুঁকি নিয়েই পুরাতন ভবনে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, উপজেলার কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৫ জন শিক্ষক, ৬ জন কর্মচারী ও ৭৯২ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ১৮০ ফুট দৈঘ্য ও ৩২ ফুট প্রস্থ এই পুরাতন ১১ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবনের নিচ তলায় ৭ কক্ষের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ ৩টিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। বাকি ৪টিতে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান চলছে। উপর তলায় ৪টি কক্ষে সপ্তম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির ক্লাস নেয়া হচ্ছে। ২য় তলায় আরও রয়েছে স্মার্ট ক্লাস ও বিজ্ঞানাগার। এ ভবনটির প্রায় অধিকাংশ স্থানেই ধসে পড়েছে। আর এ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই শিক্ষকরা চালিয়ে যাচ্ছেন পাঠদানের কার্যক্রম। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করে অভিভাবকরা।

সম্প্রতি ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্ম শিক্ষক নজীর আহম্মেদের ওপর ছাদের পলেস্তারা পড়লে তিনি আহত হন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ বশীর আহম্মেদ বলেন, ভবন স্বল্পতার কারণে জীবনের ঝুঁকি জেনেও আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছি। তিনি আরও জানান, ঐতিহ্যবাহী কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ও এইচএসসি ও পিএসসি পরীক্ষার ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ভবনটিতেই এসব পরীক্ষা হয়ে থাকে।

তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ভবন ও সম্প্রতি নির্মিত ভকেশনাল ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের দাবি করে বলেন, এছাড়া শিক্ষার্থীদের সঠিক পরিবেশে ক্লাস নেয়া সম্ভব নয়।

সহকারী প্রধান শিক্ষক শামছুল হক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি দিলিপ মিত্র ও ইসমতারা লিপি বলেন, আমাদের এ পুরাতন ভবনটি বারবার সংস্কার করে আমরা ছাত্র-ছাত্রীর ক্লাস নিচ্ছি। তারা আরও জানান, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় সেলের আঘাতে ভবনটি বিধ্বস্ত হয়।

faridpur-pic-02.jpg

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান বলেন, বিদ্যালয়টি ১৯৪২ সালে এলাকার যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ১৯৬২ সালে এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন সময় ভবনটি সংস্কার করে আমরা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ দেখা দিলে আমরা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিম সুলতানা ও গৌরব বিশ্বাস জানায়, আমরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস করি। এ নিয়ে আমাদের অভিভাবকরা সবসময় চিন্তিত থাকেন।

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আমাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করানোয় আমরা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

ফরিদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ হাসান শওকত জানান, কিছুদিন আগে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে ওই পুরাতন ভবনে পাঠদান না করানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে আমাকে অবহিত করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তফা মনোয়ার বলেন, এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেয়া হবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস না নেয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, নতুন ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বি কে সিকদার সজল/এমএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :