প্রতিবাদ করায় চার শিক্ষার্থীকে ফেল করালেন শিক্ষক

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

চার দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবার থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন সাভারের জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নিটার) শিক্ষার্থীরা।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মীজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইনস্টিটিউটের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে ইনস্টিটিউটের হোস্টেলে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের সকাল ৯টার মধ্যে অবিলম্বে ইনস্টিটিউট ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। এর আগেও টানা ১৮ দিন ধরে আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্লাসবর্জন করে আসছিল শিক্ষার্থীরা।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে যায়নি। আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষক সপ্তম এবং অষ্টম ব্যাচের চার শিক্ষার্থীকে ওই বিষয়ে ফেল করিয়ে দেন। পরে ওই শিক্ষক চাকরি ইস্তফা দিয়ে অন্যত্র চলে যান। ফল প্রকাশিত হলে আমরা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে মূল বিষয়টি খুলে বলি এবং ওই ফলাফল বাতিল করার দাবি জানাই। তবে অধ্যক্ষ এতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং আমাদের বিদায় করে দেন। পরে, ওই দিন থেকে আমরা প্রায় ১৩০০ শিক্ষার্থী ক্লাসবর্জন করি। কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে উদাসীনতা প্রকাশ করে। এরপরও আমরা আরও তিনবার দেখা করি অধ্যক্ষের সঙ্গে। তিনি আমাদের দাবি মেনে নিতে নারাজ।

এরই প্রেক্ষিতে ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ জারি করা হয়। ওই নোটিশে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা হানিকর এবং স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের আজীবন বহিষ্কারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে এক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় প্রতিবাদ করায় এক বছরের জন্য চার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত করতে তাদেরকে ফেল করিয়ে দেয়া হয়। অধ্যক্ষ এবং প্রশাসনের কাছে আমরা সত্য ঘটনা উপস্থাপন করেছি। কিন্তু তাদের কোনো উদ্বেগ নেই। ২০ দিন ধরে আমরা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের দাবি জানিয়ে আসছি।

এর আগে দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত নেই। এমনকি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানও প্রতিষ্ঠানে নেই।

এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।