তিন মাস ধরে বেতন পায় না শ্রমিকরা, কারখানার গেটে বন্ধের নোটিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ১২ মে ২০১৯

গাজীপুরে বকেয়া বেতন ও কারখানা লে-অফের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং মাস্টারবাড়ি-মির্জাপুর সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়াল সেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। রোববার সকালে গাজীপুর মহানগরীর ভীমবাজার এলাকার ওয়ার্কফিল্ড গার্মেন্টসে এ ঘটনা ঘটে।

Gazipur-Garment-Unrest

কারখানার অপারেটর তানিয়া আক্তার জানায়, তাদের গত তিনমাসের বেতন ও অন্যান্য ভাতা বকেয়া রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বেতন দেই দিচ্ছি বলে বারবার তারিখ দিয়ে আসছিল। সর্ব শেষ ঈদের আগেই বকেয়া বেতনসহ ঈদ বোনাস দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সকালে কাজে যোগ দিতে গিয়ে মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে উঠে। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে কারখানার সামনের মির্জাপুর-মাস্টারবাড়ি আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে বেলা ১১টার তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে এসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

Gazipur-Garment-Unrest

খবর পেয়ে শিল্প ও সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। প্রায় আধঘন্টা সড়ক অবরোধের পর শ্রমিকরা সড়ে গেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

Gazipur-Garment-Unrest

কয়েকজন শ্রমিক বলেন, মাত্র ক’দিন পরেই ঈদ। ঈদের আগে এভাবে হঠাৎ কারখানায় বন্ধ হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। নতুন করে কোনো কারখানায় কাজ পেলেও ঈদের আগে বেতন পাবেন না। এতে তাদের ঈদ উৎসব মাটি হয়ে গেছে।

গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পরির্দশক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ছাটাইকৃত শ্রমিকদের তিনমাস এবং নিয়মিত শ্রমিকদের এক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমবিধি অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য মালিক পক্ষকে বলা হয়েছে। রমজান মাস ও দূরপাল্লার যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে শ্রমিকদের অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। উল্টো পুলিশের ওপর হামলা করলে পুলিশ ১০-১২ রাউন্ড টিয়ার সেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

আমিনুল ইসলাম/এমএএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :