কলেজছাত্র ইকরাম হত্যায় পরিকল্পনাকারী দুই ভাই আটক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৩:৩৯ এএম, ১৫ আগস্ট ২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কলেজছাত্র মো. ইকরাম হোসেন (১৭) হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী দুই ভাইকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করে র‌্যাব-১৪ এর ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা। আটককৃতরা হলেন সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বারজীবীপাড়া এলাকার মৃত রবিউল্লাহর দুই ছেলে মো. শিমুল (২৮) ও সোহাগ মিয়া (২৪)।

উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল তাদের আটক করে বলে জানিয়েছেন ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের। বুধবার রাত ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন তিনি এ তথ্য জানান। অভিযানিক দলের নেতৃত্বে ছিলেন রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের ও র‌্যাবের ভৈরব ক্যাম্পের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক চন্দন দেবনাথ।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তা যোবায়ের জানান, ইকরাম সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের নন্দীপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে। সে সরাইল ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। ইকরাম তার খালাত বোন লাভলি আক্তারের বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করত। লাভলি আক্তারের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সুমাইয়াকে প্রায়ই ইভটিজিং করত বখাটে শিমুল। ইকরাম ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় সে। পরবর্তীতে ইভটিজিংয়ের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত শিমুলকে আট মাসের কারাদণ্ড দেন। এরপর কারাগার থেকে বেরিয়ে ক্ষোভে ইকরামকে হত্যার পরিকল্পনা করে শিমুল।

তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা মতে গত ১০ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাতে শিমুল ও তার ভাই সোহাগসহ পাঁচজন ইকরামকে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে রাখে। এ ঘটনায় নিহত ইকরামের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সরাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ইকরাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি শিমুল। এরপর থেকেই র‌্যাব সদস্যরা হত্যাকারীদের ধরতে তৎপর হয়ে ওঠেন। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিমুল ও তার ভাই সোহাগকে তাদের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আটক করে।

ইতঃপূর্বে ইকরাম হত্যা মামলায় তার ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদীসহ (১৯) তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সরাইল থানা পুলিশ। গ্রেফতার বাকি দুইজন হলেন সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বারজীবীপাড়া এলাকার মৃত মোতালিব মিয়ার ছেলে নাজিম উদ্দিন (৫৫) ও রফিক মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (৪০)। এদের মধ্যে সাদী হত্যার মিশনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজিজুল সঞ্চয়/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :