শিশু তৃষা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে কাঁদলেন মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০২:৪২ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

যশোরে আট বছরের শিশু আফরিন তৃষা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে কাঁদলেন তার মা জোসনা খাতুন। তৃষা হত্যার বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জোসনা খাতুন বলেন, আমি গরীব বলে, আমার টাকা-পয়সা নেই বলে কী আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার পাবো না? আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে খারাপ কাজ করে খুন করে ফেললো। খুনি শক্তি গাজী ক্ষমতাশালী হওয়ায় হুমকি ধামকিতে আমরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার জন্য যশোরে নিয়ে এসেছিলাম। স্কুলে পড়াচ্ছিলাম। ওরা আমার মেয়েকে শেষ করে দিল। মেয়েকে মানুষ করতে নিয়ে এসেছিলাম, এখন মেয়েকে ছাড়াই নড়াইলে ফিরে গেছি।

একতা স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে মানববন্ধনে জনউদ্যোগ যশোরের আহ্বায়ক নাজির আহমেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক ড. আঞ্জেলা গোমেজ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, বিশিষ্ট নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট সৈয়দা মাসুম বেগম, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল বসু, আরবপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার তরিকুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেত্রী বর্ণালী বিশ্বাস, একতা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহসভাপতি শহিদুল গাজী, সাধারণ সম্পাদক মিলন বিশ্বাস, শিক্ষা সম্পাদক নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মামলার এক আসামি শামীম পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অপর দুই আসামি কারাগারে রয়েছে। কিন্তু আরেক আসামি শক্তি গাজী ও তার পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তারা নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এসব কারণে নিহত শিশু তৃষার বাবা-মাও ওই এলাকা ছেড়ে নড়াইলে চলে গেছেন।

নিহত শিশু তৃষা শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকার ভাড়াটিয়া তরিকুল ইসলামের মেয়ে ও কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ যশোর শহরতলীর ধর্মতলা এলাকা থেকে তৃষার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তৃষা ৩ মার্চ বিকেলে নিখোঁজ হয়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বস্তাবন্দি মরদেহ ডোবায় ফেলে দেয় অভিযুক্তরা।

মিলন রহমান/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।