রাজবাড়ীতে প্রস্তুত জেলেরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০১৯

হামলা, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও সহযোগিতার মধ্যে দিয়ে গত ৯ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের ইলিশ রক্ষা অভিযান শেষ হচ্ছে আজ (৩০ অক্টোবর) মধ্য রাতে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জাল ও নৌকা নিয়ে আজ রাত ১২টার পর নদীতে নামতে পারবেন জেলেরা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় এরই মধ্যে জেলেরা জাল ও নৌকাসহ নদী নামার যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছেন। দীর্ঘ ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেক জেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। যা মাছ ধরে পরিশোধ করবেন।

এদিকে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর ৮৫ কিলোমিটার অংশে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। প্রজনন মৌসুমে নদীতে মাছ পাওয়া যায় প্রচুর। তাই একটু লাভের আশায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ সময় অনেক জেলেই নদীতে মাছ ধরেন। এ বছরও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। বুধবার সকাল পর্যন্ত ২১ দিনে রাজবাড়ীতে দুই পুলিশ সদস্যসহ প্রায় সাড়ে ৩শ জেলেকে আটক, ৩ টনের বেশি মাছ এবং লাখ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে জেলা-জরিমানা ও জব্দকৃত মাছ জেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

hilsha

এছাড়া জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় অভিযান পরিচালনাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসারের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যাতে আহত হয়েছেন অনেকে।

অপরদিকে চলমান ইলিশ রক্ষা অভিযানে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং নৌ পুলিশের যোগসাজসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযানের যাবার আগেই জেলেরা সেই খবর জেনে যেত। এছাড়া নৌকা প্রতি বিভিন্ন হারে টাকা নিয়ে মাছ ধরায় সহযোগিতার অভিযোগও পাওয়া গেছে নৌপুলিশের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ ও নৌপুলিশ।

hilsha

যদিও এ সময়ে প্রতিবছরের মত নদী পাড়ের গ্রামগুলোতে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের তেমন একটা চোখে পড়েনি। তবে বাড়িতে বাড়িতে দাম অনুযায়ী ছোট-বড় মাছ পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া দৌলতদিয়ার কলাবাগান, দেব্রগামের কায়াওলজানি, ছোটভাকলার অন্তারমোড়, বরাটের নয়নসুখ, মিজানপুরের কালীতলা এবং দুর্গম চরাঞ্চালসহ বিভিন্নস্থানে জেলেদের আনাগোনা ও মাছ বেচা-কেনার খবর পাওয়া গেছে। এসব স্থানে প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযানও চালিয়েছে। সর্বশেষ দৌলতদিয়ার কলাবাগানে অভিযান চালিয়ে জেলেদের জমায়েতের স্থান ধ্বংস করে দিয়েছে প্রশাসন।

রাজবাড়ী জেলায় ৯ হাজারের বেশি জেলে থাকলেও ইলিশ ধরায় সম্পৃক্ত আছেন ৪ হাজার ৬৪০ জন। যাদের প্রত্যেককে অভিযান শুরুর সময় সরকারিভাবে মাত্র ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম।

hilsha

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর থেকে আজ (৩০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত রাজবাড়ীতে মোট ২২১টি অভিযান ও ৬৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৩ শতাধিক জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল এবং অর্ধশতাধিক জেলেকে দেড় লাখ টাকারও বেশি জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৩ টনের বেশি মাছ ও ৩৫ লাখ মিটারের বেশি জাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সহযোগিতা করেছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, আনসারসহ অনেকে।

জেলেরা বলেন, সরকারের দেয়া অভিযান মেনে তাদের অনেকেই ২২ দিন মাছ ধরেননি। আজ নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে রাত ১২টার পর তারা মাছ ধরতে নদী নামবেন। এ জন্য জাল ও নৌকা প্রস্তুত করেছেন। এ কয়েকদিন তারা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে কাটিয়েছেন। মাছ ধরতে না পেরে অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, এখন মাছ ধরে ধার-দেনা শোধ করবেন।

তারা আরেও বলেন, অভিযান শুরু সময় ২০ কেজি করে চাল পেয়েছেন। কিন্তু শুধু চাল দিয়ে কি চলে? সংসারে কত খরচ। তাই অনেকে বাধ্য হয়ে নদীতে নেমেছেন। অনেক নতুন নতুন জেলে মাছ ধরছে, আর নাম পড়ছে তাদের। অনেক জেলে প্রশাসন, পুলিশ ও মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাসাজশ করে নদীতে মাছ ধরেছে। এ জন্য তাদেরকে টাকাও দিয়েছেন। যার কারণে অভিযানে আসার আগেই তারা খবর পেতেন।

hilsha

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহা. মজিনুর রহমান
বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র্যাব ও আনসারের সহযোগিতায় নিয়মিত নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জেলেরা নদীতে কম নেমেছে। অভিযানের সময় সাহায্য পাওয়া জেলেরা নদীতে নামেনি, নেমেছে মৌসুমী জেলেরা।

তিনি আরও জানান, জেলেদের সঙ্গে তার অফিসের কোনো কর্মকর্তার যোগসাজস নেই। যদিও নৌপুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অভিযোগের কথা শুনেছেন। কিন্তু সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পাননি।

রুবেলুর রহমান/এমএমজেড/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।