সিদ্ধিরগঞ্জে বিস্ফোরণ, গ্যাসের সংকেত পেতে চুলা জ্বালিয়ে রেখেছিল

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এলাকায় অধিকাংশ সময়ই গ্যাস থাকে না। এ কারণে গৃহিণীরা গ্যাসের চুলা চালু করে রাখতো। যাতে গ্যাস এলে শব্দ পেয়ে রান্না করতে যেতে পারেন। কিন্তু রোববার দিবগাত রাতে সেই গ্যাসের আশায় চুলা জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বাড়ির সব সদস্যরা। এরই মধ্যে গ্যাস চলে আশায় পুরো রুমে গ্যাস জমে ছিল। যা বুঝতে পারেনি ওই বাড়িরই ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা নূর জাহান বেগম।

ভোর সাড়ে ৫টায় ঘুম থেকে উঠে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে ম্যাচের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটে বিস্ফোরণ। এতে ওই বাড়ির ৮ সদস্য গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় মৃত্যুরবরণ করেন নূর জাহান বেগম। আর মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুরজাহানের ছেলে কিরণ মিয়া (৪৫)। কিরণ মিয়ার শরীরের ৭০ শতাংশ পোড়া ছিল।

গুরুতর অগ্নিদগ্ধরা হলেন, হিরন মিয়া (২৬), ইমন (২২), আপন (১২), কাউছার (১৪), মুক্তা (২৫) ও ইলমা (৩)। এদের মধ্যে ২-৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া। ১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাহেবপাড়া বাজার সংলগ্ন বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ফারুকের মালিকানাধীন বহুতল ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়ার ফ্লাটে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

Sidhirganj

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ির নিচতলা ভবনের সব ধরনের মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। বিস্ফোরণের কারণে জানালার গ্লাস ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। আহতদের স্বজন নাছির উদ্দিন জানান, প্রায়ই গ্যাস না থাকায় রাতে চুলা চালু রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সবাই। পরদিন ভোরে রান্না করতে নুরজাহান বেগম চুলায় আগুন জ্বালাতে গেলে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে গুরুতর আহত হয় পরিবারের ৮ সদস্য।

এসময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে বারান্দার গ্রিল ভেঙে সকলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

Sidhirganj

আদমজী ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, ফারুক মিয়ার পাঁচতলা বাড়ির নিচতলায় বিকট শব্দে রান্নাঘরের চুলা থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবারের ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ধারণা করা হচ্ছে রাতে রান্নার চুলা বন্ধ না করে ওই পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে পড়েছিল। ফলে চুলা থেকে গ্যাস বের হয়ে ঘরের ভেতর জমে থাকে। পরদিন ভোরে রান্না ঘরে গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে গেলে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ হয়।

হোসেন চিশতী সিপলু/এমএএস/পিআর