বাঁশ-কাপড়ে বানানো শহীদ মিনারে খুদে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৫০ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারাদেশের শহীদ মিনারগুলো সুন্দরভাবে সাজানো হয়। বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা ও পূর্ণ ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাঁশের ওপর সাদা ও লাল কাপড় মুড়িয়ে একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। অস্থায়ীভাবে নির্মিত এই শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এখানকার শিক্ষার্থীরা।

সদর উপজেলার ১০৬নং মধ্যনরসিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। প্রতি বছর অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই বাঁশ আর সাদা-লাল কাপড় দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আমাদের আশপাশের সব বিদ্যালয়ে অনেক সুন্দর করে শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। অনেক আনন্দ হয়। কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে রাত জেগে বাড়ির আশপাশের বিভিন্ন গাছ থেকে নানা রঙের ফুল সংগ্রহ করি আমরা। কিন্তু ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর স্থান নেই আমাদের বিদ্যালয়ে। তাই নিজেরাই বাঁশ আর কাপড় দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই।

মধ্যনরসিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বলেন, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়ার জন্য লিখিতভাবে কোথাও আবেদন করিনি আমরা। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলেছি আমরা। তারা আশ্বাস দিলেও শহীদ মিনার আর করে দেয়নি তারা। এজন্য প্রতি বছর বাঁশ আর সাদা-লাল কাপড় দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় শিক্ষার্থীরা। আমরাও তাদের সঙ্গে থাকি।

প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার আরও বলেন, ১৯৮৩ সালে ১০৬নং মধ্যনরসিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে। আমাদের সবার দাবি, আমরা একটা শহীদ মিনার চাই।

মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।