বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের ভয়ে শ্রমিকের আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ২৫ জুলাই ২০২০

বগুড়ার শাজাহানপুরে সন্ত্রাসীদের ভয়ে মোখলেছার রহমান (৫০) নামে এক শ্রমিক বিষাক্ত ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার ভোর রাত ৪টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।

মোখলেছার রহমান উপজেলার ফুলদীঘি পূর্বপাড়ার ভুঞা প্রামাণিকের ছেলে। তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের ছেলের সাজু জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে তার বাবা ও ছোট ভাই এক ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে দেখেন তার বাবা বমি করছেন। একপর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভোর রাত ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, কিছুদিন আগে তাদের নিজ বসতবাড়ির জায়গায় ইটের বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়ি নির্মাণের পর থেকে তার স্বামী বড় দুই বোন আনোয়ারা বেগম ও মনোয়ারা বেগমের দুই ছেলে লিটন ও মুন্সুর বাড়ির জমি দাবি করে বিভিন্ন ধরনে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে থানায় জিডিও করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে লিটন ও মুন্সুর সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে নিয়ে এসে তার স্বামী মোখলেছার রহমানকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে মারপিট করে ভয় দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পের উপর স্বাক্ষর করে নেয় এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে কিম্বা থানা পুলিশ বা কাউকে কিছু বললে দুই সন্তানসহ সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাড়িতে আসার পর থেকে তার স্বামী সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভীত ছিলেন। তাদেরকে টাকা দেয়ার কথা বলছিলেন। পরদিন শুক্রবার সারাদিন অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন।

বগুড়ার কলোনী এলাকায় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তারাই নিহত মোখলেছার রহমানকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

শাজাহানপুর থানা পুলিশের ওসি আজিম উদ্দিন জানান, মরদেহের পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। স্বজনদের কাছ থেকে ভিকটিমকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভয়-ভীতি দেখানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএএস/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।