আত্মসমর্পণ করেননি দুই আসামি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২০

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাত আসামি আত্মসমর্পণ করলেও আদালতে যাননি দুই আসামি। কেন তারা আদালতে যাননি তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীর দাবি, ওই দুই নামে পুলিশের কোনো সদস্য কক্সবাজার জেলা পুলিশে নেই।

তারা হলেন এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা। মামলার ৮ ও ৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি তারা। এই দুজন ছাড়া বাকিরা আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) বিকেলে সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

জামিন আবেদন নাকচ করে বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাত পুলিশ সদস্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

তারা হলেন- টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এএসআই লিটন মিয়া।

আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম বলেন, মেজর সিনহা হত্যা মামলায় নয়জন এহাজারনামীয় আসামি। এর মধ্যে ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাতজন আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। বাকি দুজন আদালতে উপস্থিত হননি।

ফরিদুল আলম বলেন, সাবেক ওসি প্রদীপসহ সাত আসামি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ জাকারিয়া। বাদীপক্ষে ছিলেন রাখাল চন্দ্র মিত্র।

শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন। বাকি দুই আসামির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি আদালত।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, মামলায় উল্লেখিত ৮ নম্বর আসামি এসআই টুটুল এবং ৯ নম্বর আসামি কনস্টেবল মোস্তফা নামে কোনো পুলিশ সদস্য জেলা পুলিশে নেই।

ওসি প্রদীপকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজার আদালতে পৌঁছায় পুলিশ। এর আগেই বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকতসহ মামলার সাত আসামিকে আদালতে নেয়া হয়। আসামিদের আদালতে হাজির করার আগে পুরো এলাকায় নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা। সাংবাদিকদের পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা।

বুধবার রাত ১০টায় টেকনাফ থানায় আদালতের নির্দেশে মেজর সিনহার বোনের করা হত্যা মামলাটি নথিভুক্ত হয়। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ টেকনাফের বিচারক তামান্না ফারহার আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া। পরে আদালত সেটি টেকনাফ থানাকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। এছাড়া মামলার তদন্তভার দেয়া হয় র্যাব-১৫ এর অধিনায়ককে।

সিনহার বোনের দায়ের করা মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকতকে প্রধান আসামি ও টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে দ্বিতীয় আসামি করে আরও ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।

শুক্রবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ খান। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন ও নিরাপত্তা বিভাগ। একইভাবে তদন্তের স্বার্থে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলিসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

এএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]