ফরিদপুরে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠছে একের পর এক ইটভাটা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৪:৫৪ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২০

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফরিদপুরে গড়ে উঠছে একের পর এক ইটভাটা। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় চলছে এসব অবৈধ ইটভাটার কাজ। এসব দেখেও না দেখার অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

এদিকে, সদরপুরের পেয়াজখালিতে অনুমোদন ছাড়াই ইটভাটা স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় ১১৯টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ ইটভাটা রয়েছে ২৫টি। যার মধ্যে চলতি বছরে নবায়ন করা হয়নি ১৪টি আর পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই ১১টির, যারা অবৈধভাবে ইট পোড়াচ্ছে।

জেলা সদরের মেসার্স এ ফি আই ব্রিকস, মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স ব্রিকস, মেসার্স লুৎফুন্নেসা ব্রিকস, মধুখালী উপজেলার মেসার্স এ আর ব্রিকস, মেসার্স এম আর ব্রিকস, কে এম জেড আর ব্রিকস, বোয়ালমারী উপজেলার মেসার্স কে বি ব্রিকস ও আহসান কবির হেলাল ব্রিকস, চরভদ্রাসন উপজেলার মেসার্স ফরহাদ হোসেন ব্রিকস এবং ভাঙ্গা উপজেলার মেসার্স হাওলাদার ব্রিকস নামে ১১টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই।

jagonews24

সদরপুর উপজেলায় পরিবেশ অধিদফতরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেসার্স ফকির ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ২৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিককে তাদের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়।

এলাকাবাসী জানায়, তাদের ফসলি জমি পাঁচ বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে ইটভাটা করা হচ্ছে। যাদের মূল লক্ষ্য নদীর বালু ও মাটি অবৈধভাবে উত্তোলন করা। এতে সরকার শুধু রাজস্বই হারাবে না বরং ইট পোড়ানো ও হরদম বালুর ট্রাক চলাচলের জন্য সেখানে জনসবতিও হুমকির মুখে পড়বে।

এ ব্যাপারে তারা জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েছে। সম্প্রতি এলাকাবাসী ইটভাটা স্থাপনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

মেসার্স ফকির ব্রিকসের মালিক এখলাস আলী ফকির বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য আমরা আবেদন করেছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি কাগজ আমরা পেয়েছি।

jagonews24

ফরিদপুর পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক এ এইচ এম রাসেদ বলেন, এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সদরপুরের মেসার্স ফকির ব্রিকসের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব ইটভাটা পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়া ইট পোড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।

ফরিদপুর জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রউফ মিয়া বলেন, আয়কর ও ভ্যাট দিয়ে সরকারের আনুষঙ্গিক বিধিবিধান মেনে আমাদের বৈধ উপায়ে ইটভাটার কার্যক্রম চালাতে হয়। এ বাবদ প্রতিটি ইটভাটাকে বছরে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করতে হয়। যারা এসব নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে ভাটা চালাচ্ছেন তাদের এই টাকা খরচ হয় না। এতে আমরা যারা বৈধ ভাটার মালিক তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এজন্য অবৈধ ও অনুমোদনহীন ইটভাটা বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দিপক রায় বলেন, যেসব ইটভাটা মালিকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক পেয়েছি তাদের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যাদের কাগজপত্র যথাযথ নেই তাদের ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ দেয়া হবে। এরপর নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বি কে সিকদার সজল/এএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]