রাজুর ধর্মান্তরের সত্যতা মিলেছে, লাশ পেলেন স্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:৩২ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২১

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রাজু সাহা (২২) মৃত্যুর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাজুর মরদেহ তার স্ত্রী জাকিয়ার (২০) হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

এদিকে রাজুকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন রাজমিস্ত্রি জসীম মোল্লা (২১)। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, রাজু সাহা উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের কামারখালী গ্রামের মৃত সুজিত সাহার ছেলে। এই পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মাঝকান্দি গ্রামে একটি বাড়িভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। প্রায় এক বছর ধরে পাশের জাহাপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দিতে একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করছিলেন তারা। রাজু ওই কাজ দেখাশোনা করতেন।

গত শনিবার (২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজুকে হত্যা করে টয়লেটের ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখেন রাজমিস্ত্রি জসীম। রোববার সন্ধ্যায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার রাজুর মা অরুণা রানী সাহা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মধুখালী থানায় মামলা করেন। সোমবার সকালে পুলিশ রাজমিস্ত্রি জসীমকে গ্রেফতার করে।

রাজুর মৃত্যুর পর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের মুসলিম তরুণী জাকিয়া দাবি করেন, ২০১৮ সালের ৫ জুন রাজু ধর্মত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ওই বছরের ৭ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে তারা বিয়ে করেন। তাদের ছয় মাসের একটি সন্তান রয়েছে। তবে রাজুর মা দাবি করেন, তার ছেলে অবিবাহিত ছিল।

এ প্রেক্ষাপটে ময়নাতদন্তের পর রাজুর মরদেহ কার হাতে হস্তান্তর করা হবে এবং তার শেষকৃত্য কোন ধর্ম অনুযায়ী হবে তা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফলে মঙ্গলবার লাশটি কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর না করে ফরিদপুর ডায়াবেটিস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) জামাল পাশা বলেন, ‘এ জটিলতা নিরসনে রাজু ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জাকিয়াকে বিয়ে করেছেন কি-না তা তদন্ত করার জন্য গত মঙ্গলবার এসআই সাইফুদ্দিনকে ঢাকার মেট্রোপলিটন কোর্টে পাঠানো হয়। তদন্তে জাকিয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রমাণ হয়েছে রাজু ধর্মান্তরিত হয়ে জাকিয়াকে বিয়ে করেছিলেন।’

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ‘রাজুর ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার (৬ জানুয়ারি) মধুখালী থানায় রাজুর মাসহ পরিবারের সদস্য, স্ত্রী ও এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে স্ত্রী জাকিয়ার হাতে রাজুর মরদেহ তুলে দেয়া হয় এবং ইসলামী রীতি মেনে তাকে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বিকেলে রাজুর লাশ তার স্ত্রী জাকিয়ার হাতে তুলে দেয়া হয়।’

অন্যদিকে, রাজুকে হত্যার দায় স্বীকার করে মঙ্গলবার ফরিদপুরের পাঁচ নম্বর আমলি আদালতের বিচারিক হাকিম সাদীয়া আফরিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন জসীম। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বি কে সিকদার সজল/এমআরআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।