বেনাপোলে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের বিক্ষোভ, আমদানি-রফতানি বন্ধ

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

বেনাপোল স্থলবন্দরে চোরাচালানে সহযোগিতার অভিযোগে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যের কার্ড জব্দ ও মামলা দেয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা কর্মবিরতির ডাক দিয়ে কাস্টমস কার্গো শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

এতে সব ধরনের আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। বন্দরের বাংলাদেশ ও ভারত অংশে শত শত ট্রাক পণ্য আটকে পড়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ভারতীয় আমদানিকার ও ট্রাকের চালক-হেলপাররা আমদানি পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেক্ষেত্রে পণ্য খালাসের আগে তাতে অবৈধ মালামাল আছে কিনা তা বোঝার উপায় নেই। অথচ কাস্টম কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সিঅ্যান্ডএফ সদস্যদের পারমিট কার্ড কেড়ে নিয়ে হয়রানি করছেন। লাইসেন্স বাতিল এবং মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান অ্যান্ড সন্স নামের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের স্টাফ সদস্য আক্তারুজ্জামান আক্তার জানান, বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে কয়লাবোঝাই একটি ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। তখন তিনি বর্ডারের কার্গো শাখা থেকে ওই পণ্যের মেনিফেস্ট নাম্বার ও ইনভয়েস তুলে বাড়ি চলে যান। রাতে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে ফোন করে বন্দরের ট্রাক টার্মিনালে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান ট্রাক থেকে ফেনসিডিল ও ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে পারমিট কার্ড কেড়ে নিয়ে একটা কাগজে সই নেন। কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ পণ্য আনার অপরাধে তার নামে মামলা হবে।

jagonews24

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, কাস্টম জোর করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে দায়ী করছেন। অথচ চোরাচালানকারী ভারতীয় চালকদের ছেড়ে দিয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম জানান, ভারতীয় বৈধ আমদানি পণ্যের ট্রাকে কিছু অবৈধ মালামাল বেনাপোল বন্দরে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা বন্দরের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় ভারতীয় তুলার ট্রাক থেকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল ও কয়লার ট্রাক থেকে কিছু ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। কয়লার ট্রাকের বর্ডারম্যান আক্তারুজ্জামান আক্তারকে আটক করে তার কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত চলছে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

জামাল হোসেন/এএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]